28 C
Kolkata

Durga Puja 2022: মাটির সোঁদা গন্ধে আগমনী বার্তা

শ্রাবণী পাল: পুজো আসছে বুঝবেন কীভাবে? পরিবশ দেখে বোঝার জো আর নেই। রৌদ্র-মেঘের মেলবন্ধন। নবকৃষ্ণ দেব স্ট্রিটে পা রাখলেই এগিয়ে আসবে পুজোর দিন। ভেজা মাটি আর বাঁশের সলার সোঁদা গন্ধ। আহা! এ গন্ধ কলকাতাই বোঝে। ওতপ্রোতভাবে বাঙালি হয়ে ওঠে। মোহন বাঁশি রুদ্র পাল, ভবেশ রঞ্জন পালের গোলায় পা রাখলেই খড়ের খোঁচা, ভেজা মাটি বলে দিচ্ছে মা আসতে মাত্র ৮৩ দিন।

মা আসছেন… বার্তা স্পষ্ট কুমারটুলির (ছবি- নাজমা খাতুন)

প্রবল ব্যস্ততার ছবি। কোথাও ছাঁচে বসছে মায়ের মুখ। কেউ বাঁধছে গনেশের ভুঁড়ি। গোলায় মাটি কেটে তৈরি হচ্ছে দেবীর পা। বায়নার ৪০ শতাংশই হয়ে গিয়েছে। জাহাজে স্বপরিবারে রওনা হয়েছেন দুগ্গা। এক কোণায় পড়ে থাকা মাটির গোলা দেখলে বোঝা দায় -এ দেখতে নাকি ভিড় জমবে কিছুদিনে। ‘মাটির পিণ্ড সে। যতক্ষণ না ঘট আকারে সুপরিণত হয়, ততক্ষণ সে মাটি। বিশেষভাবে কলাসাধনার গুণেই সে মহার্ঘ্য হয়।’ রবীন্দ্রনাথ ও ধূর্জটিপ্রসাদের পত্রালাপ একেবারে বাস্তবরূপ পেয়েছে কুমারটুলিতে।

মা আসছেন… বার্তা স্পষ্ট কুমারটুলির (ছবি- নাজমা খাতুন)

রুদ্র পালের গোলায় মায়ের বক্ষে মাটির প্রলেপ চলছে। করোনার প্রশ্ন শুনেই ক্ষেপে উঠল হাতদুটো। কপালে জুড়ল বাড়তি ভাঁজ। প্রলেপের গতির তীব্রতা আচমকাই বেড়ে গেল। তাই খুব বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করা গেল না বিষয়টা নিয়ে। পাশের গোলায় মেজাজটা আলাদা। হাসি মুখে ছাঁচ থেকে উঠছে মাতৃবদন। গণেশের ভুঁড়িও ফুলছে ভালোই। খড় দিয়ে মনসার বাহনের গড়ন চলছে। সাদা গেঞ্জি আর লুঙ্গিতে কাদা মাখা।

মা আসছেন… বার্তা স্পষ্ট কুমারটুলির (ছবি- নাজমা খাতুন)

ব্যস্ত শিল্পী-কুমারটুলি মৃৎশিল্প সমিতির সদস্য ভবেশ রঞ্জন পাল। নিজের অভিজ্ঞতা মাটিতে মিশিয়ে গড়ে চলেছেন মায়ের মুখ। অঙ্গুলি হেলনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে আটত্রিশটা বছর।

মা আসছেন… বার্তা স্পষ্ট কুমারটুলির (ছবি- নাজমা খাতুন)

নিশ্চুপ ঘরে খড় বাধার আওয়াজ আর ভেজা মাটি তোলার চিত চিত শব্দ। চোখ বন্ধ করতেই অসম্পূর্ণ মুখটা ত্রিশূল হাতে পূর্ণ সজ্জা পাবে। কাজ বাকি অনেকটাই। শঙ্খ আর উলুধ্বনির সুর ছাড়াই আগমনী বার্তা।

আরও পড়ুন:  SSC Scam : মুখমুখী বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ হেভিওয়েটদের
আরও পড়ুন:  #anubratamondal: কেউ পাত্তাই দিচ্ছে না অনুব্রতকে!

Related posts:

Featured article

%d bloggers like this: