35 C
Kolkata

kolkata: প্রসূতিদের জন্য বাধ্যতামূলক থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রসূতি মৃত্যু হার বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্যদফতরের তরফ একাধিক পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। সেই ইস্যুতেই এবার রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে প্রসূতিদের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হল। এই টেস্ট গর্ভাবস্থার প্রথম ১৬ সপ্তাহের মধ্যেই করতে হবে। কিছুদিন আগেই গেছে থ্যালাসেমিয়া দিবস। ২০২২ শে বাংলাকে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত করতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতেও থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে বলেছেন সরকার। সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ প্রসব হয়। সরকারীর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও হয় প্রসব। তাই কেউ যদি বেসরকারি হাসপাতালের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করাতে চান তবে সেই সুযোগও দেবে সরকার। রাজ্যের প্রায় ৩৬টি থ্যালাসেমিয়া কন্ট্রোল ইউনিটকে ব্যবহার করতে পারবেন প্রসূতিরা বলে জানানো হয়েছে। সেখানে তাঁরা বিনামূল্যে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করতে পারবেন।রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ সিদ্ধার্থ নিয়োগী এবং ডাঃ দেবাশিস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘সরকারি হাসপাতালে সব প্রসূতির বাধ্যতামূলকভাবে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা হবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলিকেও একই অনুরোধ করা হবে।’ এই পরিকল্পনার জন্য ৩ দিন ধরে সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কোরিওনিক ভিলাস স্যাম্পলিং কর্মশালা। এই পদ্ধতির মাধ্যমে গর্ভস্থ ভ্রূণের শরীর থেকে কোষ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি শেখানো হয়। এটি চিকিৎসকদের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন ধরেই নানা পরীক্ষা- নিরীক্ষা চলছে। যা থেকে জানা যায় ভারতে প্রতি ঘণ্টায় একজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর জন্ম হয়। ১০ কোটি জনসংখ্যার বাংলায় ১০-১৫ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। রাজ্যে অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।১৮ হাজার আক্রান্তকে রক্ত পাল্টাতে হয়। তাঁর মধ্যে ২৬ হাজারের রক্তের প্রয়োজন পড়ে না। সব দিক মাথায় রেখেই প্রসূতির থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।চিকিৎসকরা পক্ষ থেকে জানানো হয়, থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষায় যদি কোনও প্রসূতির এই রোগ ধরা পড়ে তবে তাঁর স্বামীরও এই পরীক্ষা করানো জরুরি। গর্ভস্থ ভ্রূণের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। থ্যালাসেমিয়ায় সচেতনতা নিয়ে চিকিৎসক রামেন্দু হোম চৌধুরী বলেন,’ এই সিদ্ধান্ত কালজয়ী। রাজ্য সরকারকে অনেক অভিনন্দন। বারবার করে দীর্ঘদিন ধরে এই আবেদন জানিয়ে আসছিলাম। তবে বিয়ের আগে পাত্র পাত্রীর উভয়রেই যদি থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করা হয় তবে আরও ভাল হবে।’

আরও পড়ুন:  New Virus: কোভিডের মধ্যেই নয়া ভাইরাসের হানা

Featured article