22 C
Kolkata

কলকাতার চায়না টাউন এর বড় মনখারাপ

জয়ন্ত চক্রবর্তী, কলকাতা 23 এপ্রিল:: চিনের উহান প্রদেশ করোনার আঁতুরঘর হোক বা না হোক, কলকাতার চায়না টাউন এখন ব্রাত্য কলকাতাবাসীর কাছে. এই লকডাউন এ যেন হানাবাড়ির চেহারা নিয়েছে ট্যাংরার চায়না টাউন. বৃহস্পতিবার দুপুরে চায়না টাউন এ একঝলক সফরে বোঝা গেল, করোনা এই ঝলমলে চিনা উপনিবেশটির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে. আলোকোজ্জ্বল রেস্তোরাঁ গুলির ঝাঁপ বন্ধ. ট্যানারিগুলো অতিকায় দৈত্যের মতো দাঁড়িয়ে আছে. শুনশান চায়না টাউন. চলছে না সাইকেল, হুপিলা নিয়ে চিন্তা কিশোরীদের মেতে ওঠার ছবি নেই. চিনা কালীমন্দিরের চাতালে বসেছিলেন বৃদ্ধ লি মন জুং. বৌবাজারে জুতোর দোকানে কাজ করেছেন টানা বত্রিশ বছর. বললেন, এমন কখনো দেখিনি. লোকাল রা কখনো আমাদের পর ভাবতো না. করোনা আসার পর যেন সব বদলে গেল. স্থানীয় মানুষরা এখন আমাদের শত্রু ভাবছে. একটি ভাইরাস কি বিপুল ব্যাবধান তৈরি করেছে তা চায়না টাউন এ না এলে বোঝা যাবে না. লকডাউন হওয়ার আগে পর্যন্ত একটি চিনা ভাষায় দৈনিক বেরোতো এখন থেকে. তার দরজাও বন্ধ. ওই কাগজে ফ্রি ল্যান্সিং করে বছর চব্বিশ এর মি ডং. বললো, উহান এর জন্যে ট্যাংরার ছেলেগুলোকেও বল খেলতে এদিকে আসতে দিচ্ছে না. মনে হচ্ছে ভাইরাস টা যেন আমরাই বগলদাবা করে এনেছি. এই চায়না টাউন এর চিনা খাবারের ভক্ত বিশ্ব জুড়ে. রেস্তোরাঁ ব্যাবসায়ী মুন কি রীতিমতো চিন্তিত, করোনা ভীতি দূর হলেও কি আর মানুষের চায়নিজ ফুড এ আস্থা ফিরবে? চিনা টাউন এর দু কিলোমিটার এর মধ্যে ছোট বড় পঁচাত্তরিটি রেস্তোরাঁ, সবার মনের কথা যেন এক. চিন্তার ভাঁজ সকলের কপালে. একটা সময়ে মধ্য কলকাতার টেরিটি বাজার এ চায়না টাউন ছিল. বেশির ভাগ্য চিয়া হয় ডেন্টিস্ট, নয় জুতোর ব্যাবসায়ী কলম্বা রেস্তোরাঁ মালিক – কর্মী কিংবা ট্যানারি মালিক – কর্মী হতেন. তারপর টেরিটি বাজার এর চায়না টাউন উঠে আসে ট্যাংরায়. শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থানই ছিল. এক করোনা ভাইরাস যেন এক অদৃশ্য প্রাচীর গড়ে দিল. বড় দুর্ভেদ্য এ প্রাচীর. বিশ্বাস – অবিশ্বাসের তালা কে খুলবে?

আরও পড়ুন:  Rajkumar Rao: বাংলা ছবিতে রাজকুমার রাও

Featured article

%d bloggers like this: