18 C
Kolkata

Travel Business : ক্ষতির মুখে ব্যবসা, পদক্ষেপ ডুয়ার্সের পর্যটন সংগঠনের প্রতিনিধিদের

নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যে করোনা সংক্রমণের লাগামছাড়া বৃদ্ধি রুখতে রাজ্যজুড়ে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। যার জেরে শীতের মরশুমেও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল রাজ্যের পর্যটনকেন্দ্রগুলি। আর পর্যটন কেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকায় রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়েছে পর্যটন ব্যবসা। যার ফলে ক্ষুব্ধ পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেই।

সম্প্রতি করোনা নিয়ে রাজ্য সরকারের জারি করা বিধিনিষেধে বেশকিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। শর্ত সাপেক্ষে খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে জিম, সেলুন, পার্লার৷   বিয়ের অনুষ্ঠানেও মানুষের কড়াকড়ি অনেকটা শিথিল হয়েছে৷

তবে এখনও পর্যটন কেন্দ্রগুলি খোলার  বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি রাজ্য সরকার। সেই কারণেই ডুয়ার্সের পর্যটনকেন্দ্রগুলি অবিলম্বে খোলার দাবিতেৃ গরুমারা জাতীয় উদ্যানের মূর্তি বিট অফিসের সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকা ১২টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা।যার মধ্যে রয়েছে রিসর্ট মালিকদের সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, জিপসি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, গরুমারা ট্যুরিজম ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সহ আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন।  বারোটি সংগঠনের প্রতিনিধি এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা দাবি তোলেন অবিলম্বে জঙ্গল খোলার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে রাজ্য সরকারকে।

আরও পড়ুন:  বগটুই কাণ্ডে CBI-এর জালে আরও এক, গ্রেপ্তার ভাদু শেখের ভাই

বিক্ষোভকারীদের দাবি, করোনা বিধি শিথিল করে বেশ কিছু বিষয়কে ছাড় দেওয়া হয়েছে, এমন কি জিম, সেলুন, পার্লার খোলা সহ মেলা করার অনুমতি দিচ্ছে সরকার। তবে পর্যটন কেন্দ্র গুলি কেন বন্ধ থাকবে , সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা৷ পর্যটন কেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকার ফলে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন টোটো চালক, ছোট ব্যবসায়ী, ছোট দোকানদার এমনকি জিপসি চালক -কর্মচারী প্রত্যেকেরেই অর্থ উপার্জন বন্ধ হওয়ায় রীতিমতো দিশেহারা অবস্থা বলেই দাবি করেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

গরুমারা ট্যুরিজম ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে দ্রুত এই জঙ্গল এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলি খোলার জন্য তারা রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। এমনকি কার সাফারিও চালু করারও দাবি জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের মতে,  আদিবাসী নৃত্য করে যাঁরা সংসার চালাতেন, তাঁদেরও কষ্ট করে দিনযাপন করতে হচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্রের পাশে থাকা ছোট ছোট দোকানদারদের ব্যবসা বন্ধের পথে। যাঁরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে এই দোকান করে সংসার চালাতেন, সেগুলিও বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে। পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় রিসর্টগুলিতে পর্যটক আসছেন না ।  টোটো চালকদের জীবনযাত্রা রীতিমতো থমকে গিয়েছে। তাই সংগঠনের তরফ থেকে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, যাতে দ্রুত সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলি খুলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:  Portugal vs Switzerland : নকআউটে মাঠে নামছে পর্তুগাল, অঘটন ঘটাতে মরিয়া সুইৎজারল্যান্ড

জিপসি  ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,  ডুয়ার্সের জঙ্গলকে ঘিরে অখানকার বহু মানুষের উপার্জন। এখানে জিপসি  চালক, টোটো চালক, ছোট ব্যবসায়ী, রিসোর্ট মালিকরা পর্যটনের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকেন। যদি জিম-পার্লার খোলা যায় তবে পর্যটন কেন্দ্রগুলি কেন বন্ধ থাকবে, সেই প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনের সদস্যরা। পর্যটন কেন্দ্রগুলি অবিলম্বে খোলার অনুমতি না মিললে সংগঠনের সদস্যরা আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন৷

Featured article

%d bloggers like this: