25 C
Kolkata

Durga Puja: মা দুর্গার মূর্তি গড়তে কেন প্রয়োজন হয় পতিতালয়ের মাটি? জানুন কারণ…

নিজস্ব প্রতিবেদন: উমা আসছেন ঘরে। ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। চারিদিকে সাজো সাজো রব। এক পুজো যেতেই শুরু হয়ে যায় পরের বছরের পুজোর প্রস্তুতি। পুজোর কয়েকমাস আগেথেকেই কুমোরপাড়ায় ব্যস্ততা তুঙ্গে। তাদের কাদামাখা হাতে জেগে ওঠে মৃন্ময়ী রূপে দেবী মা দুর্গা। প্রথমে একমেটে তারপর দোমেটে থেকে ধাপে ধাপে ফুটে ওঠে মা দুর্গার মূর্তি। কিন্তু জানেন কি, এই মায়ের মূর্তি তৈরিতে দরকার হয় অপবিত্র এলাকার মাটি। হ্যাঁ ঠিকই পড়রেছেন। সমাজ যাদের দূরে ঠেলে দিয়েছে, সমাজের চোখে যারা নগণ্য, তাদেরকেই আদিশক্তি কাছে টেনে নিয়েছেন। কারণ, মায়ের কাছে যে তাঁর সব সন্তানই সমান।

হিন্দুশাস্ত্রমতে, অকালবোধনের সময় মহিষাসুরমর্দিনীকে গড়তে হয় পতিতালয়ের মাটি দিয়েই। সম্পূর্ণ না হলেও আংশিকভাবে এই মাটির প্রলেপ দিতে হয় মায়ের মূর্তির কাঠামোয়। আবার মাটির প্রতিমার বদলে পাথর বা ধাতু দিয়ে মূর্তি বানালে, নবকন্যার উঠোনের মাটি মঙ্গলঘটের গোড়ায় দিতে হয়। এই নবম কন্যাই হলেন পতিতালয়ের প্রতিনিধি। অষ্টকন্যার পর শেষ পুজোটি তাই তারাই পায়। দুর্গাপুজোয় অষ্টকন্যার ঘরের মাটি নেওয়ার পর নবম কন্যা হিসেবে পতিতালয়ের মাটি সংগ্রহ করা হয়। এই নব কন্যা হলেন নর্তকী বা অভিনেত্রী, কাপালিনি, ধোপানি, নাপিতানি, ব্রাহ্মণী, শূদ্রাণী, গোয়ালিনী, মালিনী ও পতিতা।

আরও পড়ুন:  Jalpaiguri: ধুপগুড়িতে বাইসনের তাণ্ডবে আহত ১

এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন, যে মানুষদের সমাজে এত হেও করা হয়, যাদের স্থান বিদ্বজনদের কাছে ঘৃণ্যতম, সেই বেশ্যালয়ের মাটি কেন দুর্গা প্রতিমা গড়তে ব্যবহার করা হয়? শাস্ত্রমতে, যখন কোনও বেশ্যাখানায় গিয়ে কোনও বেশ্যার সাথে ঘনিষ্ট হয় তখন সেই ব্যক্তি তার জীবনের সকল সঞ্চিত পুন্য সেখানেই ফেলে আসেন। আর তারা ফেরত নিয়ে যান পাপের বোঝা। তাই মানব সম্প্রদায় বিশ্বাস করে যে যেহেতু মানুষের মধ্যে কামনা, বাসনা ও লালসা রয়েছে সেগুলি বেশ্যারা নিজেদের মধ্যে নিয়ে নেন। আর এইভাবেই তারা নিজেদের অশুদ্ধ ও অপবিত্র করে সমাজকে শুদ্ধ করে তোলেন। তাই ফলে হাজার হাজার পুরুষের পুণ্যে বেশ্যাদ্বারের মাটি হয়ে ওঠে পবিত্র। সে কারণেই এই মাটি দিয়ে গড়তে হয় দেবী মূর্তি ৷

আরও পড়ুন:  Cooch Behar: আনুষ্ঠানিকভাবে মেলা শেষ, রমরমিয়ে চলছে ব্যবসা

Featured article

%d bloggers like this: