19 C
Kolkata

Durga Puja: কালের ধুলোয় মলিন ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ স্রষ্টা বাণীকুমার

নিজস্ব প্রতিবেদন: পুজোর গন্ধ প্রত্যেক বছরই বয়ে নিয়ে আসে মহালয়া। মাতৃশক্তির সূচনা লগ্ন। ভোরে উঠে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনী শুনতে শুনতে একটা মুহূর্তে গোলাপের চেয়েও বড় কাটা দেখা যায় গায়ে-হাতে। ফিরে যেতে হয় ১৯৩২-এর ষষ্ঠীর ভোরে। ইন্ডিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং সার্ভিসের এক নম্বর গার্স্টিন প্লেসের বেতার কেন্দ্র আকাশবাণী কলকাতায়। ওইদিনই এ অনুষ্ঠানটি প্রথম সম্প্রচারিত হয়। বর্তমানে যে সম্প্রচার হয় তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা ছিল পরিস্থিতি। শ্রোতাদের চিঠির জন্য এইদিন আলাদা একটি দপ্তর খোলা হয়েছিল আকাশবাণী ভবনে। কিন্তু জানেন কি এর রচয়িতা কে? কার হাতে হয়েছিল মাতৃশক্তি আরাধনার শব্দবন্ধনীর প্রথম সূত্রপাত?

বাণীকুমার। যাঁর আসল নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। জানা যায়, তখন দুর্গাপুজো মানে বাসন্তীপুজো। তার পরদিনই অন্নপূর্ণা পুজো। এই দুই পুজোর সন্ধিক্ষণে ‘বসন্তেশ্বরী’ অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছিল। এই রচনার জনপ্রিয়তার পরই ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ রচনা করেন বাণীকুমার। হাওড়ার কানপুর গ্রামের মামারবাড়িতে জন্ম তাঁর। সালটা ২৩ নভেম্বর, ১৯০৭। তৎকালীন প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণীতে ইংরেজির সাম্মানিক স্নাতক। পূর্বপুরুষও ছিল পণ্ডিত। ইংরেজি নিয়ে পড়াশোনা করলেও সংস্কৃতেও ছিল তাঁর অগাধ ব্যুৎপত্তি। সংস্কৃত অধ্যয়ন করে তিনি ‘কাব্যসরস্বতী’ উপাধি লাভ করেন। হাওড়া জেলা স্কুলের শিক্ষক করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁরই অনুপ্রেরণায় কাব্য রচনা শুরু বাণীকুমারের।

খুরুট বারোয়ারির কাছে বাণীকুমারের মূর্তি

হাওড়ার কাসুন্দিয়ার সুবল কোলে লেনে শেষ জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছিলেন। খুরুট বারোয়ারির কাছে বাণীকুমারের একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে কিছু বছর আগে। সেখানেই উপেক্ষিত হন মহিষাসুরমর্দিনী স্রষ্টা। সারাবছর ধুলো জমে থাকে মূর্তির গায়ে। ভুলেও কারওর চোখ পড়ে না হয়তো। মহালয়ার দিন কোনও ক্রমে ফুল-মালা দিয়ে ভক্তি ‘দেখানো’ হয়। বাণীকুমার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ওয়াকিবহাল নয় তাঁর অঞ্চল তথা জেলার লোকেরাই। একপ্রকারের ইতিহাস লিখে যাওয়া মানুষটি কালের ধুলোয় মলিন হতে বসেছেন।

আরও পড়ুন:  পঞ্চায়েতের লড়াইতে নামলেন লকেট, সৌমিত্র

Featured article

%d bloggers like this: