28 C
Kolkata

আবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো সমস্ত ক্লাসই অনলাইনে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনা সংক্রমণ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় কলকাতার বহু বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলই নবম থেকে দ্বাদশের পড়ুয়াদের স্কুলে আসা বন্ধ করার পথে হাঁটছে। অর্থাৎ, পড়াশোনা ফের শুরু হবে অনলাইনে।

জাতীয় পর্যায়ের দু’টি বোর্ডের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার জন্য কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষ শুধু দ্বাদশের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পড়ুয়াদের নির্ধারিত সময়ে স্কুলে আসার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু সেখানেও পড়ুয়ারা প্র্যাকটিক্যাল শেষেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। যদিও রাজ্যের সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত এবং পোষিত স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকারা এখনও এ ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।

ডিপিএস নিউ টাউনের অধ্যক্ষা সোনালি সেন বলেন, ‘আমাদের নবম-দ্বাদশে ১৭০০-১৮০০ পড়ুয়া। তাদের এখন স্কুলে আসার অনুমতি নেই। অনলাইনে আগের মতোই ক্লাস হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না-হওয়া পর্যন্ত সশরীরে ক্লাস শুরুর কোনও সম্ভাবনাই নেই।’ একই মত মডার্ন হাই-এর প্রিন্সিপাল দময়ন্তী মুখোপাধ্যায়ের- ‘আমরা কোনও ফিজিক্যাল ক্লাস করছি না। এপ্রিলটা এ ভাবেই চলবে। তার পরে অবস্থা দেখে ব্যবস্থা।’

শ্রী শিক্ষায়তন স্কুলের সেক্রেটারি জেনারেল ব্রততী ভট্টাচার্যর কথায়, ‘আমাদের শুধু দ্বাদশের পড়ুয়াদের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি ও দূরত্ব বজায় রেখে। থিওরির কোনও ক্লাস স্কুলে হচ্ছে না। পড়ুয়ারা যতক্ষণ স্কুলে থাকছে, ততক্ষণ তাদের উপর নজরদারি থাকছে। কিন্তু স্কুল আসা-যাওয়ার সময় তো আর দেখতে পাচ্ছি না। তা ছাড়া কে কোন এলাকায় থাকে, সেটার উপরেও আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। সব মিলিয়েই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল কার্যত বন্ধ।’ ডিপিএস রুবি পার্কে সোমবার থেকেই নতুন সেশন শুরু হয়েছে। কিন্তু অনলাইনে ক্লাস। একমাত্র দ্বাদশের পড়ুয়াদের বোর্ডের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস থাকায়, সূচি মেনে তাদের সময়মতো ক্লাসে আসতে হচ্ছে বলে জানান এক আধিকারিক। পার্ক সার্কাস ডন বস্কো স্কুলের প্রিন্সিপাল ফাদার বিকাশ মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের এখন স্কুল বন্ধ। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। শুধু দ্বাদশের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস হচ্ছে কোভিড বিধি মেনে। কয়েকদিনের মধ্যেই স্কুল খুলবে। তবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে শুধু অনলাইনেই ক্লাস হবে।’

যদিও বেথুন কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত সহকারি প্রধান শিক্ষিকা শাশ্বতী অধিকারী বলেন, ‘আমরা সরকারি স্কুল। স্কুলশিক্ষা দপ্তর যতক্ষণ না বন্ধ করে শুধু অনলাইন ক্লাসের নির্দেশিকা দিচ্ছে, ততক্ষণ স্কুল খোলা রাখতেই হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘জুলাইয়ে একাদশের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা। গত বছর মাধ্যমিক পাশ করে একাদশে ভর্তির পরে ওদের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যালের কোনও ক্লাসই হয়নি। আবার ১৫ মে থেকে গ্রীষ্মের ছুটি পড়বে। তাই ওদের ক্লাস হচ্ছে।’ একই মত শাখাওয়াত গভর্নমেন্ট গালর্স স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পাপিয়া সিংহ মহাপাত্রের। কিন্তু সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুলের প্রধানদের প্রশ্ন, বেসরকারি স্কুলগুলোর অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তের পরেও বিকাশ ভবনের কর্তারা হাত গুটিয়ে বসে আছেন?

আরও পড়ুন:  Dalit Student : বানান ভুল করায় ছাত্রের শাস্তি মৃত্যু
আরও পড়ুন:  Special Needs Children : বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ নিয়ম

Related posts:

Featured article

%d bloggers like this: