26 C
Kolkata

Rabindranath Tagore: মেয়ের বিয়ে নিয়ে অবসাদে রবি


নিজস্ব প্রতিবেদন:তার হাতের ছোঁয়ায়,তার লেখা কবিতায় কতই না ঘটেছে প্রেমের সঞ্চার। আবার জুড়েছে ভেঙে যাওয়া বিচ্ছেদের পাথর। তিনি তো বলেছিলেন,’তুমি রবে নীরবে’। বাঙালির মনে প্রাণে একটাই নাম। সাহিত্য মানেই সে। কারণ কবিতা মানেই তো কবিগুরু। যে মানুষটার কলমের ছোঁয়া শব্দ কথা বলতো সেই মানুষটা কি আদোতে খুশি ছিলেন?

বিভিন্ন জায়গায় শোনা যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাকি বিশেষ বন্ধু ছিলেন তার ছোট বৌঠান। কিন্তু রবি’র বিবাহের পর একাকীত্ব গ্রাস করায় আত্মহত্যা করেছিলেন সেও। যদিও নিজের বিয়ে করা স্ত্রী,পুত্র, কন্যা, গান বাজনা নিয়ে বেশ কাটছিল রবির দিন। ধীরে ধীরে ছোট্ট মেয়েটা বড়ো হল। স্ত্রীর সাথে সেরকম বনিবনা না থাকলেও ছেলে মেয়ে বড় কাছের ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। কিন্তু ভারী মনকষ্টে ভুগতেন রবি। চির সময় যন্ত্রণা তাঁকে ঘিরে ধরত । সেই কারণেই রবি ঠাকুর সবার মধ্যে থেকেও একা। তাঁকে দগ্ধ করত কোনও অজানা বেদনা। রবীন্দ্রনাথ ও তার স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সহ মোট পাঁচ সন্তান ছিল। তাদের বড় মেয়ে মাধুরীলতা দেবী, বড় ছেলে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর,মেজ মেয়ে রেনুকা দেবী , ছোট মেয়ে মীরা দেবী আরব ছোট ছেলে সমীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মীরা দেবী রবীন্দ্রনাথের কনিষ্ঠা কন্যা। ১৮৯৪ সালের ১২ জানুয়ারী জন্মগ্রহন করেন। তাঁকে অতসী নামেও ডাকা হত। ১৩ বছর ৪ মাস বয়সে ৬ জুন ১৯০৭ সালে নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের নিতীন্দ্রনাথ (নিতু) নামে একটি পুত্র সন্তান ও নন্দিতা (বুড়ি) নামে একটি কন্যা সন্তান ছিল।


মীরা দেবী পঁচাত্তর বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে শান্তিনিকেতনে মৃত্যুবরণ করেন এর আগে ১৯২০ সালে নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের মাধ্যমে তাঁর দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ছোট মেয়ে মীরার বিয়ে দিয়েছিলেন নিজের পছন্দের পাত্র নগেন্দ্রনাথের সাথে। যদিও সেই বিয়েতে মত ছিল না রবির মেয়ের। সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় এই বিয়ে দিয়েছিলেন রবি। যদিও সেই আশায় জল ঢেলে দেয় তার জামাই নগেন। সে ছিলেন স্বেচ্ছাচারী,বর্ব্বর। সে কথা না জেনেই মেয়ের সাথে বিয়ে দেয় রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু স্বামীকে কোনও দিনও ভালবাসতে পারেননি মীরা। বাবা হিসেবে মেয়ের এই জীবন দেখে অপরাধে ভুগতেন রবিও। রবি ঠাকুরের জীবন তাই মোটেই ছিল না বিলাসবহুল। প্রতি মুহূর্তে তাঁর মনে এসে দানা বাঁধত বেদনা, যন্ত্রণা। রবীন্দ্রনাথ সারা জীবন ভেবে গিয়েছেন তাঁর চাপিয়ে দেওয়া বিয়ের জন্যই মেয়ের জীবন নষ্ট হয়েছে। এমনকি সে মেয়ের মৃত্যু কামনাও করে ফেলেছিলেন। তিনি চাইতেন মীরা মুক্তি পাক তাঁর জীবন থেকে।

বাবা হয়ে এই ভাবনাও যে তা প্রকাশ পেয়েছিল আর সেই উপলব্ধি থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন,’বিয়ের রাত্রে মীরা যখন নাবার ঘরে ঢুকছিল তখন একটা গোখরো সাপ ফস করে ফনা ধরে উঠেছিল। আজ আমার মনে হয় সে সাপ যদি তখনই ওকে কাটত তাহলে ও পরিত্রাণ পেত’। তবে, আজীবন বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে যেসব কবি-সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠিত করেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, ছোটগল্পকার, গীতিকার, সুরকার, সািহত্যিক ও অভিনেতা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কবিতার বই বনফুল প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে তিনি অসংখ্য কবিতা, গান, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী। তাঁর বিখ্যাত নাটক হলো ডাকঘর, বিসর্জন, রক্তকরবী, অচলায়তন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস হলো গোরা, নৌকাডুবি, শেষের কবিতা, চোখের বালি। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বোলপুরে ‘শান্তিনিকেতন’ নামক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি ‘নাইট’ উপাধি বর্জন করে নিবিড় দেশপ্রেমের পরিচয় দেন।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

এশীয়দের মধ্যে প্রথম সাহিত্যিক হিসেবে তিনি এ পুরস্কারটি লাভ করেন ।মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কবিতার বই বনফুল প্রকাশিত হয়। শৈশবে গৃহশিক্ষকের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়। এরপর তিনি কলকাতা নর্মাল স্কুলে ভর্তি হন। তিনি পড়াশোনার জন্য ১৭ বছর বয়সে বিলাত যান। সেখানে ব্রাইটন পাবলিক স্কুল ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে তিনি অসংখ্য কবিতা, গান, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী। তাঁর বিখ্যাত নাটক হলো ডাকঘর, বিসর্জন, রক্তকরবী, অচলায়তন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস হলো গোরা, নৌকাডুবি, শেষের কবিতা, চোখের বালি। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার।

আরও পড়ুন:  Shehzada: বন্ধুত্ব! কিংয়ের ' পাঠান '- র জন্য বড় ত্যাগ কার্তিকের

এক চিন্তাবিদ ছিলেন রবিঠাকুর। বিশ্বের নানা প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হয় তাঁর দর্শন। তাঁর চিন্তাভাবনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ ঘটে বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের। ঈশ্বর, মনুষ্যত্ব, বিজ্ঞান, সত্য ও সৌন্দর্য নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ কথোপকথন হয়।

Featured article

%d bloggers like this: