28 C
Kolkata

Kishore Kumar:অমর শিল্পী কিশোর

নিজস্ব প্রতিবেদন:১৩-ই অক্টোবর ১৯৮৭ সন্ধ্যেবেলা বম্বের জুহুতারা রোডে সুরের ছন্দপতন। চির ঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন সুরের রাজা কিশোর কুমার। শেষ হয়ে গেলো ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক জমকালো অধ্যায়।

এই অধ্যায়ের প্রথম পাতাটি লেখা হয়েছিল ৪ আগস্ট ১৯২৯ সালে। মধ্যে প্রদেশের নিস্তরঙ্গ শান্ত একটি শহর খান্ডোয়ায় জন্ম গ্রহণ করেছিলেন আভাস কুমার গাঙ্গুলি। বাবা কুঞ্জলাল গাঙ্গুলি ছিলেন একজন বিখ্যাত আইনজীবী। ছোটবেলায় আভাসের পায়ের আঙ্গুল কেটে যায়। সেই যন্ত্রনা অনেকদিন ছিল। তারই ব্যাথাতে সবসময় কাঁদতো আভাস। আর এই কান্নাই আভাসের গলাকে সূরের রাজপথে পাকাপাকি ভাবে দৌড়ের ব্যবস্থা করে দেয় একদিন।

কিশোর কুমার তখন অভিনয় করছেন ,টুকটাক গানও করছেন। বিয়েও করেছেন রুমা গুহঠাকুরটাকে। অমিত কুমারের জন্মও হয়ে গিয়েছে।সুখী সংসারে হঠাৎ ছন্দপতন। রুমা ডিভোর্স নিলেন কিশোর কুমারের থেকে। ভেঙে পড়লেন কিশোর। এই সময়ে তার পাশে কেউ দাঁড়ালো না। নড়বড়ে কেরিয়ার আর একাকিত্বকে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন কিশোর কুমার। ধীরে ধীরে কিছু গান জনপ্রিয় হতে শুরু করলো। বেশ কিছু ছবিতে অভিনেতা হিসেবে নামও করলেন তিনি। তবুও কাটেনি তার একাকিত্ব। এই সময়েই তার জীবনে এন্ট্রি নিলেন মধুবালা। তার ভুবন মোহিনী হাসির ঝলক কিশোর কুমারকে আরেকবার ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখাল। কিন্তু ওই যে সুখ আর কিশোর হয়তো একে অপরের সঙ্গে থাকতে চায়না।

মধুবালার শরীরে বাসা বাঁধল মরন রোগ ক্যন্সার। কিশোর কুমার আপ্রাণ চেষ্টা করলেন তাকে বাঁচাতে। কিন্তু নিয়তি ক্লাইমেস্কটা একটু অন্যরকমই লিখেছিলেন। নিজের কাজের জগৎ থেকে একরকম নির্বাসনে চলে গিয়েছিল কিশোর এই সময়। যা কিছুতেই হাত দিচ্ছেন সবেতেই ব্যর্থ। এরপর বাধ্য হয়ে মায়ের গয়না বন্দক দিয়ে একটি ছবিও প্রযোজনা করেছিলেন, দূর গাগন কি ছাও মে। আবার ব্যর্থতার সাথেই দেখা। সালটা ১৯৬৯,পারোসান,আরাধনা,তারপরের বছরেই কাটি পাতাং। কিশোর কুমারকে বলিউড সংগীত জগতের শীর্ষ মসনদে বসিয়ে দিল। তারপর প্রায় দেড় দশক ধরে একটা সাফ্যলের মহাকাব্য লিখে গেলেন কিশোর কুমার। মধুবালা চলে যাওয়ার পরে আরও দুবার সংসার বেঁধেছিলেন কিশোর।

যোগিতাবলীর সঙ্গে ক্ষণস্থায়ী সংসার আর তারপরেই লিনা চন্ডভাকারের সঙ্গে ঘর বাঁধা। কোথাও যেনও কিশোর কুমারকে অপ্রাপ্তি দিয়েছিল। যা তিনি পূরণ করতেন তার সুরের মধ্যে। তাই তার মৃত্যুর তিন দশক পরেও অমলিন কিশোর। হয়তো জীবনের শূন্যতা তার কণ্ঠকে পরিপূর্ণতা দিয়েছিল। তাই আজও তিনি চির কিশোর।

আরও পড়ুন:  Prosenjit Weds Rituparna: : অবশেষে বিয়ে পাকা হল বুম্বা ঋতুর

Featured article

%d bloggers like this: