34 C
Kolkata

Sondesh Potrika:সন্দেশে’র একাল সেকাল

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাঙালির কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সেন্টিমেন্টের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটা মিষ্টি মাসিক পত্রিকা, যা বাংলার শিশু ও কিশোরসাহিত্যকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছে, যে পত্রিকার গল্প,কবিতার মধ্যে দিয়ে বাঙালির গত কয়েকপ্রজন্মের বড়ো হয়ে ওঠা, ১৯১৩ সালে সেই ‘সন্দেশ’ পত্রিকার আবির্ভাব ঘটে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর হাত ধরে।সত্যজিৎ রায়ের লেখক জীবনের শুরু তথা ‘ফেলুদা’ থেকে ‘প্রফেশর শঙ্কু’ , সুকুমার রায়ের ,পাগলা দাশু ,আবোল-তাবোল,হ-য -ব -র -ল মানে আক্ষরিক অর্থে ছোট্ট ও কিশোর পাঠকদের জন্য ‘সব পেয়েছির আসর’ নিয়ে হাজির হয়েছিল এই ‘সন্দেশ’ পত্রিকা। সেকালের তথাকথিত প্রাপ্তমনস্ক পাঠকদের ক্লাসিক গল্প- উপন্যাসকে,বাংলা শিশু ও কিশোরসাহিত্যের জনপ্রিয়তা যে ছুঁয়ে ফেলতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো ‘সন্দেশ’ পত্রিকা।

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ‘ইউ রায় এন্ড সন্স’ কোম্পানির প্রতিষ্ঠা করেন। আর এই প্রতিষ্ঠান থেকেই ‘সন্দেশ’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। সেইসময় বাংলাসাহিত্যে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো শিশুসাহিত্যিক ছিলেন না,তাই খুব অল্প সময়য়ের মধ্যে ‘সন্দেশ’ পত্রিকা বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে।উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর মৃত্যুর পর এর সম্পাদনার দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেই তার সুযোগ্য পুত্র সুকুমার রায়। বাংলা শিশু সাহিত্য সুকুমার রায়ের যাদুকরী স্পর্শে আরো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।তিনি লিখেছিলেন ১০৩টি কবিতা, ৮৮টি গল্প, ১২২টি প্রবন্ধ, ৮টি নাটক আর ২টি বড়ো গল্প, শুধু তাই নয় পত্রিকায় প্রকাশিত সব ছবিও তিনি-ই আঁকতেন।মাত্র ৩৬ বছর বয়সে এই অসামান্য প্রতিভাবান কবি সাহিত্যিকের মৃত্যু শিশুসাহিত্য জগতের ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

আরও পড়ুন:  Wife Murder: টিভির আওয়াজ ঢেকে দিলো গৃহবধূর আর্তনাদ

পিতার মৃত্যু পর পত্রিকার দায়িত্বভার হাতে তুলে নেয় তাঁর পুত্র সত্যজিৎ রায়।তবে প্রথমে তিনি সন্দেশ পত্রিকার হাল ধরেননি,ধরে ছিলেন সুকুমার রায়ের ভাই সুবিনয় রায়।তবে ১৯২৫ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।১৯২৯ সালে, আর্থিক ক্ষতির জন্য পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ইউ রায় এন্ড সন্স’ বন্ধ হয়ে যায়।এর সাথে সাথে প্রায় তিন দশক ধরে বন্ধ হয়ে গেলো ‘সন্দেশ’ পত্রিকা।১৯৬১ সালে, আবার প্রকাশ হতে শুরু করলো ‘সন্দেশ’ পত্রিকা, সম্পাদকের দায়িত্বে থাকলেন সত্যজিৎ রায়, সহসম্পাদক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। ১৯৬৩ সালে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের বদলে সহসম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন সত্যজিতের পিসি (ফুফু) লেখিকা লীলা মজুমদার।

আরও পড়ুন:  Suicide: মহিলা হোমগার্ডের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার


১৯৬৩ সালেই সত্যজিৎ রায় ‘সুকুমার সাহিত্য সমবায় সমিতি’ নামে একটি অলাভজনক সমবায় সমিতিকে সন্দেশ পরিচালনার ভার অর্পণ করলেন।এমনকি এখনো এই সমিতি-ই ‘সন্দেশ’ চালাচ্ছে।সত্যজিৎ রায় তাঁর পিতার মতো পত্রিকাতে বিজ্ঞান, কমিক ট্রিপ, লিমেরিক প্রভৃতি নানান বিষয় যোগ করেন।১৯৯২-৯৩ সালে,মাত্র ১৪ মাসের মধ্যেই মারা গেলেন সত্যজিৎ রায়,নলিনী দাস (সহ-সম্পাদক) আর অশোকানন্দ দাস। পরের বছর লীলা মজুমদার অসুস্থ হয়ে পড়েন।সত্যজিৎ রায় মারা যাওয়ার পর, তাঁর পুত্র সন্দ্বীপ রায় সন্দেশের সম্পাদনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন । আর প্রকাশনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন নলিনী দাস-অশোকানন্দ দাসের ছেলে অমিতানন্দ দাস। কিন্তু এতোসব কিছুর পর সন্দেশ তার আগের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতো পারলো না।নতুন যুগের নতুন নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী- কমিক্স, রংবেরঙের ছবিওয়ালা পত্রিকা, আর নতুন নতুন টেলিভিশন চ্যানেল সব মিলিয়ে নিয়মিত সন্দেশ প্রকাশ করা-ই কঠিন হয়ে উঠল। মাঝে মাঝেই দু-একটা সংখ্যা বাদ পড়তে লাগলো। ২০০৬ সালে,চারটি অপ্রকাশিত সংখ্যার পর, নতুনকরে নতুন রূপে আর্থিক সাহায্যে সন্দেশ পত্রিকা প্রকাশ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  Weather : এক ঝলকে আবহাওয়া

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী,সুকুমার রায় ,সত্যজিৎ রায়ের ‘সন্দেশ’ হলো একটি আবেগ।রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, নারায়ণ সান্যাল, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সুনীল গাঙ্গুলী, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ প্রমুখ নানান গুণীজনের লেখা প্রকাশিত হয়েছে এই পত্রিকায়।সাদাকালো থেকে রঙিন ও বর্তমানে ডিজিটাল হয়ে ওঠার নানান ভাঙা-গড়ার, ওঠা-নামার গল্পের এতিহ্যবাহী আবেগকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে শতাব্দী প্রাচীন “সন্দেশ” ।

আরও পড়ুন:  kolkata: তালতলায় দেওয়াল ভেঙে মৃত এক

Featured article