25 C
Kolkata

Exclusive Psychologist Suparna Ghosh: ”প্যানিকে পড়ে ছাত্রীর মা বলছেন, মেয়ে হাতে গুনতে ভুলে গেছে”: মনোবিদ সুপর্ণা ঘোষ

শ্রাবণী পাল: ‘কাল কিসনে দেখা?’… করোনার কারণে অনেকেই ডিপ্রেশনে ভুগছেন। তবে কালকের কথা ভেবে আজকের দিনটা নষ্ট করা উচিত নয়। এমনই মনে করছেন মনোবিদ সুপর্ণা ঘোষ। কী-খবরের কথা বলেছে তাঁর সঙ্গে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মানুষ একা। আর এই একাকিত্ব নিজের থাবা আরও চওড়া করেছে কোভিড পিরিয়ডে। ঘরবন্দি মানুষ একদিকে যেমন পরিবারটা কি, তা বুঝতে শিখেছে। অন্যদিকে, অতিষ্ট হয়ে উঠেছে আজকের প্রজন্ম। অবসাদ আগাগোড়াই ছিল। কিন্তু করোনাকালে কি তার ধরন বদলেছে? মনোবিদ ঘোষ জানান, ”করোনার সময়ে অবসাদগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা অসম্ভবভাবে বেড়ে গিয়েছিল। একজনের সঙ্গে অপরজনের দূরত্বের মাত্রা বেড়ে গেল হঠাৎই। এগুলোর সঙ্গে কেউই অভ্যস্ত ছিল না। বাড়িতে বন্দি হওয়ার পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি।” এই যুগের ছেলেমেয়েদের সম্পর্কে বিশেষ করে বলেছেন মনোবিদ সুপর্ণা। তাঁর কথায়, ”এমন পরিস্থিতি আগে কখনও তৈরি হয়নি। এক ঘরে বাচ্চা, স্বামী, মা- একসঙ্গে বসে কাজ করছে। সারাক্ষণ বাড়ির লোক বলছে, ‘কী করছিস?’ এসবে অভ্যস্ত নয় এই যুগের ছেলেমেয়েরা। একটা বিরক্তি এসে গেছে তাদের মধ্যে। বাবা-মা সারাক্ষণ পাশে ঘুরঘুর করছে।”

অবশ্যই শুধু খারাপ নয়, ভালো দিকও ছিল। ”মহামারীর ভালো দিক হয় না। তবে ঘরবন্দি দিকটাকে পজিটিভভাবে নেওয়া যেতে পারে। ঘরে যারা থাকে, তারা ঠিক কী করে। এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। আমার চেনাশোনা অনেকেই বলেছেন, ম্যাম মা এতদিন কী করতেন তা বুঝতে পেরেছি।” আরও একটি খুব সংবেদনশীল দিক তুলে ধরেছেন তিনি। মনোবিদের কথায়, ”স্বজন হারানোর ভয়টা বাসা বেঁধেছে। আমি একজন কলেজ ছাত্রীকে চিনি। তাঁর মধ্যে ভয় ঢুকে গিয়েছিল। বাবা-মা-র যদি কিছু হয়ে যায়! এমনই হল, তাঁর বাবা করোনা আক্রান্ত হলেন। হাসপাতালে ভর্তিও হলেন। মেয়েটির মনের ভয় আরও বাড়তে শুরু করল। টেকন-ফর-গ্রান্টেড হওয়ার থেকে হারানোর ভয় জন্ম নিতে শুরু করেছিল।”

আরও পড়ুন:  Recipe : বাড়িতেই বানান ফুটবল বিশ্বকাপ !

করোনা শৈশবকেও গ্রাস করেছে। কল্যাণীর একটি প্যারেন্টিং ওয়ার্কশপের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন সুপর্ণা। তিনি বলেন, ”একটা সময়ে বাচ্চারা স্কুলের মুখই দেখল না। স্কুলে মূলত একদম ছোট বাচ্চারা দৈনন্দিন অভ্যাস শেখে। কীভাবে স্কুলের বাইরের গণ্ডিতে চলাফেরা করতে হয়। সেটা ওরা বুঝতে শেখে। বাচ্চারা সব বাড়িতে বসে গেল। ফলে নিয়মানুবর্তিতাটা শেখা বাকি রয়ে গেল। বাবা, মা, দাদা, দিদি, ঠাকুমা, দাদু- এর বাইরে আর কিছু হল না। খেলাধুলোটা পুরো থমকে গেল।” নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে একটি দারুন দিক তুলে ধরেন মনোবিদ সুপর্ণা। তিনি বলেন, ”এই ওয়ার্কশপে এক শিশুর অভিভাবক আমায় বলছেন, ‘ম্যাম আমার বাচ্চা তো ইউটিউবার হয়ে গেছে।’ তাঁরা ভেবেছিলেন আমি হয়তো বাহবা দেব। কিন্তু আমি দেইনি। এটা ইউটিউবার হওয়ার বয়স নয়। বাচ্চাদের মস্তিষ্ক পরিণত হতে ১৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। স্কুল চেষ্টা করেছে পড়ানোর। কিন্তু সেটাও তো অনলাইনেই ছিল। বাবা-মায়েরাও বুঝতে পারেনি যে ওরা পুরো সময়টাই গ্যাজেটে দিয়ে ফেলছে।” আরও একটি অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ”ক্লাস সেভেনের একটি বাচ্চা। ওর মা আমায় বলছে, ‘আমার মেয়ে হাতে গুনে অঙ্ক করতে ভুলে গেছে। সবটাই ক্যালকুলেটরে করছে। এতে বাবা-মায়েদের দোষ নেই। অনিচ্ছাকৃত কখন যে এভাবে গ্যাজেটমুখী হয়ে গেছে, কেউই বোঝেনি।” সব শেষে মনোবিদ জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের সময় লাগবে। একইসঙ্গে আগামী দিনে যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তার জন্যে মনোবল বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি। যখন যেটা হবে, তার জন্যে প্রস্তুত থাকার পরামর্শই দিয়েছেন সুপর্ণা ঘোষ। কালকেরটা ভেবে ‘আজ’কে যেন নষ্ট না করা হয়।

আরও পড়ুন:  Health : দাঁত হলদে হয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পান সহজে

Featured article

%d bloggers like this: