24 C
Kolkata

North Sentinel Island: সভ্য সমাজের আড়ালে অন্য এক সমাজ

স্বর্ণালী মল্লিক: সারা বিশ্বে বিভিন্নধরণের দ্বীপ রয়েছে। সেই সকল দ্বীপে কলাকুশুলি থেকে শুরু করে ক্রীড়াপ্রেমী এমনকি সাধারণ মানুষও নিজেদের বিশেষ মুহূর্তকে আরও বিশেষ করে তুলতে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে পারি দেন। কিন্তু আজ আপনাদেরকে এমন একটি দ্বীপের কথা বলব যেখানে ঘুরতে যাওয়া তো দূর থাকে সেই দ্বীপের নাম শুনলেও মানুষ ভয়ে দূরে চলে যায়। কথিত আছে, এই দ্বীপে যেই একবার প্রবেশ করে সে আর কোনদিনও ফিরে আসে না। শুধু তাই নয় এই দ্বীপের মানুষগুলিও পুরো বিশ্বের মানুষের থাকে সম্পূর্ণ আলাদা।

ভাবছেন এ কোন দ্বীপ? এই দ্বীপটি হল আন্দামান-নিকোবরে অবস্থিত নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপ। যাকে ভারতের রহস্যময়ী দ্বীপ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু ভারতে বলে ভুল হবে, পুরো বিশ্বে এই দ্বীপটিকে ভয়ঙ্কর ও রহস্যময়ী দ্বীপ বলা হয়। এই দ্বীপে থাকা জনজাতিদের বাইরের মানুষের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। বলাই ভালো এখানকার মানুষ কখনই বাইরের মানুষের সাথে যোগাযোগ করে না। এই জনজাতি শুধুমাত্র নিজেদের লোকের সাথেই থাকে থাকতে পছন্দ করে। ওই দ্বীপে যদি কখনও আমাদের মতো সাধারণ কোন ব্যক্তি চলে যায় তাহলে এখানে থাকা জনজাতি ওই ব্যক্তির নিশ্চিত প্রাণঘাতি। এই জনজাতি দেখতে অনেকটা ভয়ানক ও আদিমানববের মতো। এদের জীবনের একটাই লক্ষ্য শিকার করা ও বেঁচে থাকা। এই জনজাতি কখনওই চাষাবাদ করে না কারণ, এই জনজাতিরা মনে করে চাষাবাদ করলে এখানকার জঙ্গল শেষ হয়ে যাবে। এরা শুধু মাত্র ফল ও শিকার করে। তবে এই জনজাতি শিকারের জন্য তীর,পাথর ব্যবহার করে থাকে। যদি এই জনজাতির সামনে যেকোনো পশু চলে এলে তাহলে সেটা তাদের রাতের নৈশ্যভোজ হয়ে যায়। এই জনজাতির কাছে পোশাক একটা অপছন্দ বিষয়। তাই তারা নিজেদেরকে পোশাকহীন অবস্থায় রাখে। যদিও এই জনজাতি কিছু সময় পাতাকে পোশাক হিসাবে ব্যবহার করে থাকে। এই জনজাতি সাধারণ মানুষের মতো পোশাক পড়া মানুষদেড় দেখলে ভয়ঙ্কর রেগে যায় এবং তাদের উপর আক্রমণ করার জন্য একবারও ভাবেন না।

এই জনজাতির মধ্যে আধুনিকীকরণ আনা অসম্ভব। এই জনজাতি কখন সাধারণ মানুষের সামনে আসেনি। যদি কখনও এই জনজাতি বাইরের মানুষের সংস্পর্শে চলে আসে তাহলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এমনকি সাধারণ সর্দি-কাশি এই পুরো দ্বীপটিকে বিন্যাস করে দিতে পারে। সরকার অনেক চেষ্টা করেছে এই জনজাতির সাথে যোগাযোগ করার কিন্তু যারাই এই জনজাতির সাথে যোগাযোগ করার জন্য যায় তাদের উপর এরা তীর, কামান সহযোগে হামলা চালায়। এই দ্বীপের স্থলপথটির মতো আকাশ পথটিও সমানভাবেই বিপদজনক। যদি কোন বিমান ওই দ্বীপ দিয়ে যায় তাহলে ওই বিমানের উপরও এই জনজাতি হামলা করে দেয়। একবার একদল মৎস্যজীবী ভুলবসত ওই দ্বীপে মাছ ধরে চলে যায়। যখনই ওই জনজাতিদের ওই মৎস্যজীবীদের নজরে পরে তখনই তাঁদের উপর তীর ছুঁড়ে তাঁদেরকে মেরে ফেলে। তখন থেকে সরকারের তরফ থেকে ওই দ্বীপে যাওয়ার জন্য নিষেধাঞ্জা জারি করে দেয়। এমনকি এই দ্বীপে যাবার জন্য কেউকে কোন অনুমতিও দেওয়া হয় না।

আরও পড়ুন:  Suhana Khan: ওজন ঝড়িয়ে উন্মুক্ত পাখি হয়ে উঠলেন সুহানা

একবার এক আমেরিকান ব্যক্তি যার নাম জন এলেন চাও, এই দ্বীপ ঘুরতে চলে যায়। তখন সারা বিশ্ব আগ্রহ সহযোগে ওই ব্যক্তি দিকে তাকিয়ে ছিল। তারপর জন এলেন চাও ওই জনজাতির সংস্পর্শে আসতেই জন এলেন চাও-এর যা হাল হয়েছিল তা দেখে সকলেই হতবাক হয়েছিল। জন এলেন চাও-কে ওই জনজাতি তীর, কামান দিয়ে হামলা করে মেরে ফেলেছিল। দু’দিন পর জন এলেন চাও-র দেহ সমুদ্রের তীর থেকে পাওয়া যায়। বড়ো বড়ো পরিবেশবিদদের মতে, এখানকার জনজাতি বাইরের মানুষদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। এদের পোশাক পড়া মানুষদের দেখে রাগ হয়, তাই তারা সাধারণ পোশাক পড়া মানুষদের জীবন কেড়ে নেয় এই জনজাতি।

এই জায়গার সাথে সম্পর্কিত আরও একটি আশ্চর্জজনক ঘটনা রয়েছে। হয়তো তাই এই জনজাতি বাইরের দুনিয়ার মানুষের সাথে কোন সম্পর্ক রাখতে চায় না। ভারত স্বাধীন হওয়ার আগে কিছু লোক এই দ্বীপের দু’জন ব্যক্তি সহ দুই শিশুকে পাকড়াও করেন। কিন্তু সেই জনজাতি বাইরের মানুষের সংস্পর্শে আসতেই তাঁদের মৃত্যু হয় এবং তাঁদের শিশুদের শারীরিক অবনতিও ঘটতে থাকে। তাই ইংরেজ সরকার ওই শিশুদের কিছু উপহার দিয়ে সেই দ্বীপেতেই আবার ফিরিয়ে দেয়। আর এর থেকেই বোঝা যায় এই দ্বীপের জনজাতি কোনভাবেই বাইরের আবহাওয়ার সাথে স্বাছন্দ্যবোধ করে না। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর, ভারত সরকার বহুবার এই দ্বীপের জনজাতির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ওই জনজাতি তীর, কামান সহযোগে আক্রমণ চালিয়ে ভারত সরকারের একাধিক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে। এইজন্যই ভারত সরকার ওই দ্বীপে যাওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

আরও পড়ুন:  Analytics : পরীক্ষার আগের রাতে সিলেবাস শেষের পালা রাজ্যে

এই দ্বীপের জনজাতির সাথে সর্বপ্রথম যোগাযোগ করেন টি.এন পণ্ডিত যার পুরো নাম ত্রিলোক নাথ পন্ডিত। অনেক চেষ্টার পর জানা যায় এরা ‘ওঞ্জ’ সম্প্রদায়ের মানুষের মতো নিজেদের জীবনকার্য চালায়। এই জন্য টি.এন পণ্ডিত ওই জনজাতির সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে ‘ওঞ্জ’ সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে আসে। যদিও ওই ‘ওঞ্জ’ সম্প্রদায়ের মানুষদের দেখে এই জনজাতি রেগে যায়। কিছু বিশেষ নিয়মের জন্য এই জনজাতি টি.এন পণ্ডিতের সাথে কথা বলতে রাজি হয়। কিন্তু এই কথোপকথনের জন্য টি.এন পণ্ডিতকে অর্ধ জলে পোশাকহীন হতে হয়। এই আলোচনার মধ্যে টি.এন পণ্ডিত ওই জনজাতিকে উপহার হিসাবে নারকেল ও শিশুদের জন্য পুতুল দেয়।

এই আলোচনা অল্প কিছু সময়ের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল। যদিও এই জনজাতি টি.এন পণ্ডিতের উপরেও তীর, বাণ দিয়ে হামলা চালানোর জন্য একবারও ভাবেনি। তবে টি.এন পণ্ডিত ভাগ্যের জোরে নিজের প্রাণরক্ষা করেন। এরফলে টি.এন পণ্ডিত ওই জনজাতির সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারেন। আর এই সব কারণের জন্যই এই দ্বীপটিকে ভয়ঙ্কর দ্বীপ হিসাবে মানা হয়। ওই শিশুদের উপহারস্বরূপ যে, পুতুল দেওয়া হয় সেই পুতুলগুলির মাথা ভেঙে ফেলে দেয় ওই জনজাতি। তাই এই দ্বীপে কেউ যেতে চায় না। এই দ্বীপের জনসংখ্যা মাত্র ২০০-৩০০ জন। যদি এরা বাইরের মানুষের সংস্পর্শে আসে তাহলে এদের মৃত্যু হতে পারে।

Featured article

%d bloggers like this: