28 C
Kolkata

Cultivation of saffron: জাফরান চাষে হতে পারেন লাভবান

নিজস্ব প্রতিবেদন :রেড গোল্ড অর্থাৎ লাল সোনা কোনটি জানেন কি ? এই সোনা চাষে হতে পারেন লাভবান। এখন এটি চাষ করে বহু কৃষক কামাচ্ছে দ্বিগুন মুনাফা।জাফরান পৃথিবীর অন্যতম দামী মসলা। জাফরানের সুগন্ধ ও উজ্জ্বল রঙের গুরুত্বের জন্য জাফরান ব্যবহার করা হয়।ভারতের কাশ্মীরে এ ফসলের চাষ অনেক বেশি হয়। জাফরানের ইংরেজি নাম সাফরান। ফুটন্ত ফুলের গর্ভদন্ড সংগ্রহ করে, তারপর তাই থেকে জাফরান প্রাপ্তি একটা ব্যয় বহুল ও প্রচুর শ্রম নির্ভর কাজ। একই কারণে এ দামী মসলা চাষে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তবুও যদি একটু দৈয্য ধরে রাখা তবে হতে পারেন লাভবান।

জমি

প্রায় সব ধরনের জমিতে জাফরান চাষ করা যায়। তবে বেলে-দোঁআশ মাটি এ ফসল চাষে বেশি উপযোগী। এঁটেল মাটিতে জাফরানের ফলন ভালো হয় না, তবে এ ধরনের মাটিতে কিছু পরিমাণ বালি ও বেশি পরিমাণ জৈব সার মিশিয়ে এ মাটিকে চাষ উপযোগী করা যায়। এই ফসল জলাবদ্ধতা একেবারে সহ্য করতে পারে না। এ জন্য জল নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত উঁচু বা মাঝারী উঁচু জমি এ ফসল চাষের জন্য প্রয়োজন। মাটির পি এইচ ৬-৮ হলে বেশি ভালো হয়। ছায়া বা আধা ছায়ায় এ ফসল ভালো হয় না। পর্যাপ্ত রোদ ও আলো-বাতাস প্রাপ্তি সুবিধা আছে এমন স্থানে এ ফসল চাষের জন্য উপযুক্ত।

সময়

বর্ষা শেষ হওয়ার পূর্বে জুলাই- আগষ্ট মাসে এ ফসল রোপণ করা হয়। শুরুতে বেশি গভীরভাবে জমি চাষ করে বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি আগাছা মুক্ত ও সমান করে নেওয়া প্রয়োজন। জমি তৈরির কালে প্রতি শতক জমিতে পচা গোবর/আবর্জনা পচা সার ৩০০ কেজি, টিএসপি ৩ কেজি এবং এমওপি ৪ কেজি প্রয়োগ করে ভালোভাবে মাটির সাথে সমস্ত সার মিশিয়ে হালকা সেচ দিয়ে রেখে দিয়ে দু’সপ্তাহ পর জাফরান রোপণ উপযোগী হবে। বসতবাড়ি এলাকায় এ ফসল চাষের জন্য বেশি উপযোগী।বর্ষার শেষে আগষ্ট মাসে মাটি থেকে গাছ গজিয়ে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ও ফুল দেওয়া অব্যাহত থাকে। মে মাসের মধ্যে গাছের উপরিভাগ হলুদ হয়ে মরে যায়। এটি মাটির নিচে তাজা অবস্থায় বর্ষাকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকে।গাছে শীতের শুরুতে অর্থাৎ অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ফুল আসে। বড় আকারের মোথা লাগানো হলে সে বছরই কিছু গাছে ফুল ফুটতে পারে। শীতকালে গাছের বাড় বাড়ন্ত ভালো হয়। শীত শেষে এ বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

পরিচর্যা

জমি সবসময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাঝে মাঝে নিড়ানী দিয়ে হালকা ভাবে মাটি আলগা করে দেওয়া হলে মাটিতে বাতাস চলাচলের সুবিধা হবে এবং গাছ ভালোভাবে বাড়বে। শুকনো মৌসুমে হালকা সেচ দেয়া যাবে। তবে অন্য ফসলের তুলনায় সেচের প্রয়োজনীয়তা অনেক কম। বর্ষায় জল যেন কোন মতে জমিতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জল জমে থাকলে রোপিত পচে যাবে।

ফসল

পরের বছর প্রতি গাছে পর্যায়ক্রমে ২-৩ টা ফুল আসবে। দু’বছরের গাছে ৪-৫ টা এবং তিন বছরের গাছে ৭-৮ টা ফুল দিবে। গাছে অক্টোবর মাস থেকে ফুল দেওয়া আরম্ভ করে এবং নভেম্বর মাস পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। তবে এ ফুল ফোটা মৌসুমী তাপমাত্রার উপর অনেকটা নির্ভর করে।

Featured article

%d bloggers like this: