28 C
Kolkata

Cultivation of zinia flowers:বাহারি জিনিয়া ফুলের করুন চাষ ,আয় বাড়বে

নিজস্ব প্রতিবেদন :জিনিয়া ফুল চেনেন তো নাকি ! গ্রাম বাংলার কিন্তু অতি পরিচিত ফুল এটি। তবে এই ফুল বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ এই ফুলের চাষ থেকে আয় করা যায়। তবে শুধু জমিতে নয় চাইলে আপনি বাড়ির ছাদের টবে ফুলের চাষ করতে পারেন। জিনিয়া ফুল চাষ মধ্যেও ব্যয়বহুল নয় খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে এই ফুল এবং এই ফুল চাষের জন্য ব্যয় করতে হয় খুব অল্প টাকা। এই ফুল নানা রঙের হয় লাল গোলাপি হলুদ বেগুনি।তাছাড়া সিঙ্গেল ও ডাবল জাতের জিনিয়া সাধারণত চাষ হয়ে থাকে | এর জনপ্রিয় জাত হচ্ছে ডাবল ফুল, যা চন্দ্রমল্লিকার মতো দেখতে |বাড়ির ফুলদানিতে সাজাতে কিংবা তোড়ার জন্য এই ফুল ব্যবহৃত হয়। অনেক দাম দিয়ে এই ক্রেতারা কেনে এই ফুল।

জিনিয়া ফুল চাষের পদ্ধতি –

মাটি

হালকা উর্বর দো-আঁশ মাটি এই ফুল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। জলাবদ্ধ, ভিজে ও স্যাঁতসেতে জমিতে এই ফুল চাষ একদম ভালো হয় না|

সময়

জিনিয়া ফুল চাষে উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়া প্রয়োজনীয়। কিন্তু ক্রমাগত ও অত্যাধিক বৃষ্টিপাতে গাছের পাতা কুঁকড়িয়ে যেতে পারে ও ফুল ছোট হয়ে যায়। সমভাবে ব্যাপ্ত ১০০-১২৫ সেমি. বৃষ্টিপাত ও ৩০-৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন মৌসুমি ফুলের পক্ষে বিশেষ অনুকূল।জুন মাসের মাঝামাঝি এবং অক্টোবর মাসে বীজ বপণ করে চারা প্রস্তুত করা হয় |

জমি

এই ফুল চাষের জন্য হালকা উর্বর দোআঁশ মাটি, উঁচু, শুষ্ক ও সহজে জল নিষ্কাশিত হয় এমন জমির প্রয়োজন হয় | দক্ষিণ খোলা জমি এ ফুল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। জমিতে লাঙ্গল দেওয়া বা কোপানোর সময় জমিতে পরিমাণমতো পাতাপচা সার, গোবর পচা সার, হাড় গুঁড়ো বা সুপার ফসফেট সার প্রয়োগ করে জমির সাথে মেশাতে হবে। জমিকে সম্পূর্ণভাবে কর্ষণ করে মাটি ঝুরঝুরে ও নরম করে ১ফুট বা ৩০ সেমি. দুরে দুরে চারা বসাতে হবে। চারা রোপনের পর জমিতে উপযুক্ত পরিমাণে ও নিয়মিতভাবে সেচ প্রয়োগ করতে হবে |বীজতলার চারাগুলি ২/৩ ইঞ্চি বা ৫-৮ সেমি. এর মত লম্বা হলেই রোপণ করতে হবে। বাগানে রোপণ করলে ১.৫ফুট বা ৪৫ সেমি. দূরে দূরে রোপন করতে হবে। রোপণের কিছু দিনের মধ্যে গাছে ও নিকৃষ্ট ধরনের ফুল ফুটতে আরম্ভ করে। কিন্তু বর্ষাকালের মাঝামাঝি ও শেষের দিকে গাছ যখন ৩ ফুট বা ৯০ সেমি. এর মত লম্বা হয় তখন গাছে বড় বড় ফুল হয়।

সার

চারা রোপণের প্রায় ১৫-২০ দিন পর থেকে গাছের গোড়ায় ৭ দিন পর পর তরল সার (খোল ও কাচা গোবর ১০ দিন মাটির পাত্রে ভিজিয়ে রেখে তার জল), পাতাপচা সার বা আবর্জনা সার, হাড় গুঁড়ো দিতে হবে। ফুল আসার সময় এ তরল সারে প্রতি লিটারে ১০০ গ্রাম সুপার ফসফেট মিশিয়ে দিলে ফুলের রং ও গড়ন ভালো হয় | গাছে কুঁড়ি আসার সময় ইউরিয়া, আমোনিয়াম সালফেট সার প্রয়োগ করতে হবে |গাছের গোড়া শুকিয়ে গেলে সেচ দিতে হবে | এরপর, প্ৰয়োজন অনুযায়ী গাছে সেচ দেওয়া আবশ্যক |নিয়মিতভাবে আগাছা পরিষ্কার করা বাঞ্চনীয় | গাছ বড় হলে প্রতি গাছ থেকে ৩ বা ৪ তে বড় শাখা রেখে বাকিগুলি ছেঁটে দিতে হবে | তাতে গাছে ফুল বড় হবে |

Featured article

%d bloggers like this: