29 C
Kolkata

Cultivation of flower: ফুল চাষের জন্য কি কি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমাদের দেশে নানা ধরণের ফুল চাষ হয়। নানা রঙের ছটায় সেজে ওঠে জমিগুলি যা দেখতে কিন্তু দারুন লাগে। আমাদের দেশে ফুল শুধুমাত্র তার সৌন্দর্য্যের জন্য চাষ করা হয় না। রোপণ করা হয় তার থেকে বাণিজ্যিক লাভ পেতে। এই ফুল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করে অনেকেই দেখেছে লাভের মুখ। এখন বিভিন্ন প্রজাতির ফুলই চাষ হয়। আবার একই ফুলের নানা প্রজাতিও চাষ করা হয়। মূলত যেসব ফুল চাষ করা হয় সেগুলি হল – গোলাপ, গাঁদা, চামেলি, বেলি, জুঁই, শেফালি, রজনীগন্ধা, গন্ধরাজ, দোপাট্টি, চন্দ্রমলি্লকা, ডালিয়া, অপরাজিতা,জবা ইত্যাদি। কিছু কিছু ফুল সারা বছরই চাষ করা হয় আবার কিছু ফুল বিশেষ কোন কালে চাষ করা হয়। কিছু ফুল এমনিতেও জন্মে আবার কিছু নানা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে চাষ করতে হয়। তবে সব ফুলের বাণিজ্যিক গুরুত্ব একই। ফুলে চাষে যদি স্বাবলম্বী হতে চান তবে বিশেষ কিছু নিয়ম আপনাকে মানতেই হবে।

১) প্রথমে যেই বিষয়টির দিকে নজর দিতে হবে তা হল রোপনের সময়। ফুল গাছ রোপনের ক্ষেত্রে সময়ের দিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। আপনাকে অবশ্যই সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ফুলের বীজ, চারা, কলম বা কন্দ অশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত রোপণের উপযুক্ত সময়।পারলে এই সময় রোপন করার চেষ্টা করুন।

২) তারপর যেই বিষয়ের দিকে নজর রাখতে হবে তা হল জমি। এমন জমি আপনাকে নির্বাচন করতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পাবে চারা গাছ। মাটির ক্ষেত্রে তা দো-আঁশ মাটি হতে হবে। কারণ এই মাটি ফুল চাষের জন্য উপযোগী। জমি নির্বাচনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাগানের আকার-আকৃতি বর্গাকার হলেই তা ফুল চাষের জন্য উপযুক্ত।

৩)ফুল চাষের জমি জন্য জমিতে বেড়া দেওয়া জরুরি। কারণ জমিতে বেড়া না দিলে অবাঞ্ছিত আক্রমণ থেকে ফুল গাছকে বাচঁনো সম্ভব হবে না। গবাদি পশু অনেক সময় জমিতে ঢুকে পড়ে এবং নষ্ট করে দেয় জমিয়ে নরম চারাগাছ গুলি সেক্ষেত্রে বাঁচাতে হলে শক্ত বাঁশের বা কাঁটাতার বা লোহার বেড়া দিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে গরু-ছাগল যেন সে বেড়া ভেঙ্গে না ফেলে।

৪)ফুল গাছের চারা জমিতে রোপনের পূর্বের জমির পরির্চযাও আবশ্যক। কন্দ ,চারা কিংবা কলম রোপনের আগে অন্তত ২০ থেকে ২৫ দিন আগে জমি ভালোভাবে কুপিয়ে নিতে হবে এবং দিতে হবে উপযুক্ত সার। সারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন পচা গোবর, টিএসপি, হাঁড়ের গুঁড়া, এম.পি. ইউরিয়া, খৈল, চায়ের উচ্ছিষ্টাংশ, ছাই ইত্যাদি। এই সার গুলি নিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিন। চারা গাছের স্বাস্থ্যের জন্য খেয়াল রাখতে হবে জমিতে জৈবসার গুলিও যেন পর্যাপ্ত পরিমানে যায়। আবার পিঁপড়ে ও মাকড়সার আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষার জন্য হিপ্টেক্লোন-৪০ পরিমাণমতো দেওয়া যায়। সাধারণ পোকার জন্য মেলতিয়ন বা ডাইমেক্রন ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। রোগ অনুযায়ী তাই প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫) চারা গাছের পরিচর্যার জন্য আর যেই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হল সময় মতো গাছে জল দেওয়া। দফায় দফায় চাহিদামতো দিতে হবে জল। আবার জল দেওয়ার সঠিক সময় সূর্য ওঠার পূর্বে অথবা সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে।

Featured article