28 C
Kolkata

Republic Day : স্বাধীনতা-প্রজাতন্ত্র দিবস, পার্থক্য রয়েছে পতাকা উত্তোলনের নিয়মে

নিজস্ব সংবাদাতা : ২৬ জানুয়ারি, দেশজুড়ে পালিত সাধারণতন্ত্র দিবস। এদিন লালকেল্লায় পতাকা উন্মোচন করেন রাষ্ট্রপতি। স্বাধীনতা দিবস এবং প্রজাতন্ত্র দিবসে জাতীয় পতাকা উন্মোচন এবং উত্তোলনের একটি নিয়ম আছে, জাতীয় পতাকার ব্যবহার বিধি নির্দিষ্ট করার জন্য কিছু নিয়ম বিধি রয়েছে।

  • দেশের ‘ফ্ল্যাগ কোড অব ইন্ডিয়া’ আইনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়ের সুনিদির্ষ্ট তথ্য দেওয়া রয়েছে।
  • যে যে নির্দেশিকার মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে, তা সুস্পষ্ট করা হয়েছে ওই আইনে।
  • যেমন, তেরঙা পতাকা তিনটে সমান আয়তক্ষেত্রে বিভক্ত থাকবে। উপরের অংশে গেরুয়া, মাঝের অংশে সাদা এবং নীচের অংশ সবুজ হবে।
  • সাদা অংশে থাকবে গাড় নীল রঙের অশোকচক্র। যাতে ২৪টি স্পোক থাকবে। পতাকার আয়তন অনুপাত ৩:২ হবে।
  • সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পতাকা উত্তোলিত থাকবে। পতাকা মাটিতে স্পর্শ করা যাবে না। পোড়ানোও আইনত নিষিদ্ধ।
  • এছাড়াও কোনও ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবহার করা যাবে না। এই নির্দেশিকা না মানলে ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী তিন বছরের জেল হতে পারে।

এর পাশাপাশি পতাকা সংক্রান্ত সব নির্দেশিকা এক হলে একটি পার্থক্য রয়েছে স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবসে পতাকা উত্তোলন এবং উন্মোচনের সুনির্দিষ্ট নিয়মে।  ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট আমাদের দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছিল। লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন দেশের শাসনভার তুলে দেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর হাতে। ওইদিন মধ্যরাতে ক্ষমতার হস্তান্তর করে ইংরেজ ভারত ত্যাগ করে। ১৪ আগস্ট মধ্যরাতে চুক্তিপত্রে সাক্ষর করেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ব্রিটিশ ইউনিয়ন জ্যাক দণ্ড বেয়ে নেমে আসে। পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত স্বাধীন দেশের তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। সেইদিন থেকেই চলে আসছে এই নিয়ম। প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় লালকেল্লায়। আর দেশের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে রীতি মেনে পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী।  দীর্ঘ সংগ্রামের পর অর্জন করা স্বাধীনতার রূপ ফুটে ওঠে স্বাধীনতা দিবসের এই পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে।

আরও পড়ুন:  Roger Federer : পেশাদারী টেনিস থেকে রাজার বিদায়
আরও পড়ুন:  Team India : সমতা ফেরানোই লক্ষ্য ভারতের, দলে ফিরছেন বুমরাহ

আর প্রজাতন্ত্র দিবস অর্থাত্ ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি দেশের সংবিধান গৃহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে অনুসরণ করে দেশে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে মর্যাদা পান। ততদিনে স্বাধীন দেশের পতাকা উজ্জ্বল অস্তিত্ব নিয়ে উড়ে চলেছে। তাই এই দিন আর পতাকা উত্তোলন করা হয় না। তেরঙ্গা উন্মোচন হয়। প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দণ্ডের ওপরে ভাঁজ করে বাঁধা পতাকাকে এক ঝটকায় খুলে দেন। ১৯৫০ সালে ২৬ জানুয়ারি স্বাধীন ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর নয়াদিল্লির রাজপথে প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন আয়োজিত হয়েছিল। সেই প্রথা মেনে আজও রাজধানীর রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসে পতাকা উন্মোচন করা হয়।

এদিন স্তম্ভের ওপর বাঁধা পতাকার ফাঁস খুলে রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে আন্তর্জাতিক স্তরে বার্তা দেন স্বাধীন ভারত সার্বভৌমিক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র দেশ। ইতিহাসের সরণী বেয়ে সেই নিয়মই চলে আসছে আজও। তবে দুই ক্ষেত্রেরই পতাকা উত্তোলন এবং উন্মোচনের পর অভিবাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এবং দুই ক্ষেত্রেই পতাকা উত্তোলনের পর জাতীয় সংগীত বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুন:  Fire: বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড হাসপাতালে, ঝলসে মৃত্যু চিকিৎসক সহ দুই শিশুর
আরও পড়ুন:  Accident: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পর্যটকবাহী গাড়ি, মৃত ৭, আহত ১০

Related posts:

Featured article

%d bloggers like this: