28 C
Kolkata

দুই দেশের ‘রক্তের সম্পর্ক’

ঢাকা: বিশ্বে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেছে সময়। সমস্ত দেশ নিজেদের লড়াই চালানোর জন্য অন্য দেশকে নিজেদের দলে টানছে। এশিয়া মহাদেশে চীন তৎপর বাংলাদেশকে কাছে টানতে। জল্পনা আরও উস্কে দিয়ে ঢাকা সফরে আসেন চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও। বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতিকে সমর্থন করলেও তাদের ঋণের ফাঁদ কৌশলপূর্ণ ভাবে এড়িয়ে গেল।

এই সফরের দিকে খুব কড়া নজর ছিল সাউথ ব্লকের। ভারত যথেষ্ট সন্দিহান বেজিংয়ের কার্যকলাপের প্রতি। এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, “ভারতের সঙ্গে ‘রক্তের সম্পর্ক’ রয়েছে বাংলাদেশের। চিনের সঙ্গে সখ্যতায় এতে কোনও প্রভাব পড়বে না।”

গত রবিবার চীনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে নিজ সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ এক চিন নীতিতে বিশ্বাসী। বাংলাদেশ চিনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বকে মূল্যায়ন করে।” দু’দেশের মধ্যে চারটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সন্দিহান হয়ে উঠেছে ভারত। সোমবার ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেন, “ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক রক্তের অক্ষরে লেখা। ভারত সরকার ও জনগণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যে সহায়তা করেছে সেটা বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, তততিন রক্তের অক্ষরে লেখা থাকবে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যে উচ্চতায়, সে সম্পর্কের সঙ্গে অন্য কারো সম্পর্ক তুলনীয় নয়।” এই মন্তব্যে ভারতের এই সন্দিহান মনোভাব কূটনৈতিকস্তরে বাংলাদেশ পর্যন্ত অবধি পৌঁছেছে তা সুস্পষ্ট।

আরও পড়ুন:  Kurmi Protest: ৯৬ ঘন্টা স্তব্ধ জাতীয় সড়ক
আরও পড়ুন:  Hijab Controversy: সাংবাদিক হিজাব না পরায় সাক্ষাৎকার বাতিল করলেন রাষ্ট্রপতি

এদিন চিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “চীন আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং উন্নয়নে অংশীদার। আমাদের অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের সহায়তা আছে। এ দেশে তাদের কর্মচারী-আধিকারিকরা কাজ করছেন। বন্ধু দেশ হিসেবে চীন যে কোনও প্রস্তাব দিতে পারে। কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব নীতি হচ্ছে আমাদের বিদেশনীতি। আমি কখনও মনে করি না রক্তের অক্ষরে লেখা সম্পর্কে অন্য কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।”

উল্লেখ্য, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও কৌশলে চীনা ‘ঋণের ফাঁদ’ এড়িয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা চীনের থেকে কোনও অর্থ সাহায্য নিয়ে নিজেদের নতুন কোনও পরিকাঠামো তৈরি করতে বা প্রকল্পের সূচনা করতে রাজি নয়। দুই দেশের মধ্যে যে সমস্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তার প্রায় সবক’টিই শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান সংক্রান্ত।

আরও পড়ুন:  মার্কিনদের ওপর পুতিনের তোপ কিসের?

Featured article

%d bloggers like this: