18 C
Kolkata

রহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ভয়

ঢাকাঃ ২০২১ মে মাসে শুরু হয়ে মায়ানামারে সামরিক অভ্যুথান। তাতে লাখ লাখ রহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ে। আবার শুরু হয়েছে মায়ানামার সেনার সাথে ‘আরাকান সালভেশন আর্মি’-র, যা রহিঙ্গা জঙ্গি গোষ্ঠী বলে পরিচিত। তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে বাংলাদেশ সরকার। আবার ঢল নামতে পারে রহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের।

সূত্রের খবর, এই লড়াই-এর জন্য ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রামের রোহিঙ্গাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মায়ানমার সেনাবাহিনীর সাথে এই  সংঘাতের উপর নজর রাখছে গোয়েন্দা সংস্থা। আর তাতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যেএই উদ্বাস্তু রহিঙ্গারা আবার করে ভিড় করতে পারে বাংলাদেশে। প্রসঙ্গত, ২০২১ থেকে এইদিন পর্যন্ত প্রায় ১১ লক্ষ রহিঙ্গা বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে মায়ানমার সেনার নির্যাতনের জন্য করে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা ভিটেমাটি হারাতে পারে। এই উদ্বাস্তুদের অধিকাংশের গন্তব্য হবে বাংলাদেশ। ফলে নতুন করে বাংলাদেশকে আরও সমস্যায় পড়তে হবে।

আরও পড়ুন:  Volcano: ৪০ বছর পর জেগে উঠেছে বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি, টগবগিয়ে ফুটছে লাভা, বাড়ছে আতঙ্ক

মংডুতে বসবাসরত কয়েকজন রোহিঙ্গা মোবাইল ফোনে অভিযোগ করে বলেন যে আরাকান আর্মির সঙ্গে যুদ্ধের বাহনা করে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতে চাইছে মায়ানমার। সেনাবাহিনী তাঁদের এলাকাগুলি একে একে ঘিরে ফেলছে। কক্সবাজার ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা নেতারাও একই কথা বলছেন। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, “মায়ানমারের অভ্যন্তরে যা হচ্ছে-সে ব্যাপারে আমরা খোঁজখবর রাখছি। নতুন করে একজন রোহিঙ্গাও যেন বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি), কোস্টগার্ড-সহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা আর কোনও রোহিঙ্গাকে দেশে ঢুকতে দেব না। আর বোঝা বহন করা সম্ভব নয়।” শরণার্থী সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই মুহুর্তে শরণার্থীদের ফেরত নিতে গড়িমসি করছে মায়ানমার। রোহিঙ্গাদের অনেকেই অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এনিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। ঢাকায় গণভবনে রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১১ লক্ষেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কারণে গভীর বনভূমি কক্সবাজারের উখিয়ার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তারা গাছ কেটে বনভূমি হ্রাস এবং এলাকার পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। এছাড়া প্রতি বছর ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে।” সবমিলিয়ে, পরিস্থিতি যে অত্যন্ত জটিল তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:  Bangladesh: একসময় আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন, আজ ১৩১তম দেশ ভ্রমণে আসমা

Featured article

%d bloggers like this: