25 C
Kolkata

বিশ্বের পনেরোটি দেশ জানেনা করোনা কাকে বলে

জয়ন্ত চক্রবর্তী, কলকাতা 26 এপ্রিল:: শুনলে অবাক হবেন, এই বিশ্বেও পনেরোটি দেশ আছে যেখানে এই মারণ করোনা ভাইরাস দাঁত ফোটাতে পারেনি. এই সব দেশে করোনা আক্রমণের সংখ্যা শূন্য. দেশগুলির মধ্যে এশিয়ার দেশ তিনটি. উত্তর কোরিয়া, তুর্কমিনিস্তান এবং তাজিকিস্তান. আফ্রিকা মহাদেশের এসেতো এবং কোমোরোস দেশে করোনা কাকে বলে কেউ জানেনা. ওশেনিয়া অঞ্চলের কিরিবাত, টুরিয়ালু, টোঙ্গা, সোমারা, ফেডেরাটন অফ মাইক্রোনিসিয়া, মার্শাল আইল্যান্ড, সলোমন আইল্যান্ড, নাউরও, পালাউ কিংবা ভ্যানাতুতে করোনার কোনো চাপ নেই. এই দেশগুলির অনেকগুলোই আপনার অজানা. কিন্তু সত্তর লক্ষ থেকে এককোটির কম লোকসংখ্যা নিয়ে দেশগুলি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে. কলকাতার কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানলাম যে তাঁরাও লক্ষ্য করেছেন, দ্বীপ দেশগুলিকে হয় করোনা ছুঁতে পারেনি কিংবা সেখানে প্রকোপ অত্যন্ত কম. এইরকমই একটা দ্বীপ দেশ সার্ক ভুক্ত শ্রীলংকা. শ্রীলংকায় করনাই আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র চারশো জনের মতো. গত কুড়ি মার্চ শ্রীলংকায় করনা দেখা দেওয়া মাত্র সেখানে কার্ফু জারি হয়. সেই কার্ফু উঠছে সোমবার. শ্রীলংকা কার্যত করোনা মুক্ত. বিষরসজ্ঞরা বলছেন, শ্রীলংকার অধিবাসীরা বেশি পরিমান ভেষজ খাবার খাওয়ায় তাড়া করোনা মুক্ত থাকতে পেরেছে. একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে ভারতীয় উপমাদেশে, বিশেষ করে সার্ক ভুক্ত দেশগুলিতে ইউরোপ এবং আমেরিকার তুলনায় করোনার প্রকোপ অনেক কম. উনিশশো পঁচাশি সালের ডিসেম্বর এ জিয়াউর রহমান সার্ক প্রতিষ্ঠা করেন. বর্তমানে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, nepal, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকা এই সার্ক এর সদস্য. বিশ্ব ব্যাংকের একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে এই আট দেশেই করোনা প্রকোপ europe- আমেরিকার থেকে কম. অথচ জনঘনত্বের বিছাতে, স্বাস্থ্য বিধির মূল্যানে এবং অসচেতনার কারণে এই দেশ গুলিতে করোনার প্রকোপ অনেক বেশি হওয়ার কথা ছিল. না হওয়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দুটি কারণের উল্লেখ করছেন. সার্ক দেশের মানুষরা সূর্যের প্রখর তাপের সঙ্গে ঘর করতে অভ্যস্ত. সূর্যের তাপ তাদের শরীরে মেলানিন তৈরি করে. ভিটামিন ডি ও তৈরি হয়. দুটোই করোনা প্রতিরোধে সাহায্য করে. এছাড়াও এক বাড়িতে গাদাগাদি করে থাকার ফলে, অপরিছন্ন বাসন কোসন ব্যবহার এবং অনিয়মিত খ্যাদ্যাভ্যাস নানা ধরণের ভাইরাস তৈরি করে. এই জীবাণুর সঙ্গে নিরন্তর লড়তে হয় বলে স্বাভাবিক একটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠছে সার্ক ভুক্ত দেশগুলির মানুষদের মধ্যে. তাই, করোনা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটালেও সার্ক ভুক্ত দেশগুলিতে সেভাবে বিস্তার লাভ করেনি. নয়তো আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এই দেশ গুলিতে ইউরোপ – আমেরিকা কে ছাড়িয়ে যেত. বিশেষজ্ঞদের একটি মহল বলছেন সার্ক দেশগুলিতে সেই ভাবে পরীক্ষা হচ্ছে না বলে করোনা আক্রান্ত ধরা পড়ছে না. পরীক্ষা কম হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সার্ক দেশগুলিতে যে ভয়াবহতা হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি. ভবিষ্যতেও যেন না হয়.

আরও পড়ুন:  WB: কেন পুরুষদের এই সমস্যা বাড়ছে?

Featured article

%d bloggers like this: