24 C
Kolkata

Mariana Trench: বিশ্বের গভীরতম সমুদ্র খাত

নিজস্ব প্রতিবেদন: পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় ৮৮৫০ মিটার, যা নেপাল ও চীনের সীমান্তরেখায় অবস্থিত। অপরদিকে সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা খাতের গভীরতা প্রায় ১১,০৩৪ মিটার (৩৬,২০১ ফিট) অর্থাৎ প্রায় ৭ মাইলের সমান! অর্থাৎ পুরো মাউন্ট এভারেস্টকেও যদি তুলে এনে এই জায়গায় ডুবিয়ে দেওয়া হয় তারপরও এভারেস্ট শীর্ষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২১৩৩ মিটার (৭০০০ ফিট) নিচে থাকবে।

প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ঠিক পূর্বে অবস্থিত। মারিয়ানা খাত একটি বৃত্তচাপের আকারে উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২৫৫০ কিমি ধরে বিস্তৃত। এর গড় বিস্তার প্রায় ৭০ কিমি। অধোগমন নামক এক ভৌগোলিক প্রক্রিয়ায় এই খাতটি গঠিত হয়েছে। খাতটির দক্ষিণ প্রান্তসীমায় গুয়াম দ্বীপের ৩৪০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে পৃথিবীপৃষ্ঠের গভীরতম বিন্দু অবস্থিত। এই বিন্দুর নাম ‘চ্যালেঞ্জার ডিপ’ গভীরতা প্রায় ১১,০৩৩ মিটার। বিন্দুটি ১৯৪৮ সালে জাহাজে নাবিকেরাই আবিষ্কার করেন, সেই জাহাজের নাম “এইচএমএস চ্যালেঞ্জার ২”।

আরও পড়ুন:  ATK MohunBagan : বিচলিত নন বাগান কোচ ফেরান্দো

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা এতটাই বেশি যে এই জায়গাটা চির অন্ধকার এবং এটিই সাগরতলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার স্থান। এছাড়াও, পানির চাপ এতটাই যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের স্বাভাবিক বায়ুচাপের তুলনায় তা ১০০০ গুণেরও বেশি! এ কারণেই এখানে স্বাভাবিকের চেয়ে জলের ঘনত্বও প্রায় ৫% বেশি। এতসব প্রতিকূলতার কারণে চ্যালেঞ্জার ডিপে মানুষের অবতরণ সহজ ছিল না।

আজ থেকে বহু আগে প্রথমবারের মতো চ্যালেঞ্জার ডিপে মানুষের অবতরণ হয়। ১৯৬০ সালে জ্যাক পিচার্ড এবং নৌবাহিনী লেফটেন্যান্ট ডন ওয়ালশ ট্রিয়েস্ট নামক গভীর সমুদ্র তলে অনুসন্ধান যোগ্য জলযানে করে চ্যালেঞ্জার ডিপে পৌঁছান। জাক পিকারের বাবা ওগুস্ত পিকার বাথিস্কাফ উদ্ভাবন করেন। জাক ও ডোনাল্ড ১০,৯১৫ মিটার গভীরতায় ত্রিয়েস্তকে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। এটিই ইতিহাসের সবচেয়ে গভীরতম ডুব।

মারিয়ানা ট্রেঞ্চের নামকরণ করা হয়েছে নিকটবর্তী মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের নামে। যার নামকরণ স্পেনের চতুর্থ ফিলিপ এর বিধবা রাণী মারিয়ানা অফ অস্ট্রিয়ার সম্মানে লাস মারিয়ানা করা হয়েছিল। খাতটির পশ্চিম দিকে দ্বীপগুলি একটি দ্বীপের আর্কের অংশ যা একটি টেকটোনিক প্লেটের উপর গঠিত, যাকে বলা হয় মারিয়ানা প্লেট।

আরও পড়ুন:  France : পিছিয়ে পড়েও জিরুর গোলে জয় ফ্রান্সের, অনবদ্য এমবাপে

খাতটি প্রায় ২ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ, চওড়ায় ৬৯ কিলোমিটার। এখনও পর্যন্ত খাদের সর্বোচ্চ গভীরতা জানা গেছে প্রায় ১১ কিলোমিটার (প্রায় ৩৬ হাজার ৭০ ফুট)। অবশ্য গভীর সাগরের তলদেশে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে এখনও রয়ে গেছে নানা সমস্যা। ফলে বিজ্ঞানীদের ধারণা খাদের গভীরতা আরো বেশি হতে পারে। সে জন্যই তাঁরা চালাচ্ছেন নিত্যনতুন অভিযান। পুরো মাউন্ট এভারেস্টকেও যদি তুলে এনে এই জায়গায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়, তাও তার মাথার ওপর আরও জায়গা বেঁচে যাবে।

Featured article

%d bloggers like this: