24 C
Kolkata

Bhawanipurer Maharaja: ভাবনিপুরের মহারাজ

নিজস্ব প্রতিবেদন :শোনা যায়, নাটোরের রাজা মহারাজ জগদিন্দ্রনারায়ণের ভবানীপুরের বাড়ির এক আসরে, এক সাধকের বাঁশীর সুরে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বাগানের সমস্ত পাখীরা উড়ে এসে জড়ো হয়েছিল সেই ঘরে। কেবল বাঁশী নয়, সেই সাধক ছিলেন দক্ষ দোতারাবাদক; মেঠোসুরের গানে হৃদয় দুলিয়ে সমস্ত গ্রামবাসীর মনের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। গেরুয়া বসনের উদাসীন প্রকৃতির এই মানুষটাকে গ্রামবাসীরা ডাকতেন ‘ফকির’ বলে। ফকির আফতাবুদ্দিন।

এই আফতাবুদ্দিনের কাছেই আলাউদ্দিন সাহেবের প্রথম শিক্ষানবিশি। ১৯৩৫ সালে, আলাউদ্দিন তাঁর ছোটভাইকে চিঠিতে লিখছেন, “… স্বর্গীয় মধ্যম দাদা ফকির আফতাবউদ্দিনকে স্বপ্নে দেখতে পাই। তিনি মখমলের সাদা কোট-পেন্ট পরিয়া আমাকে মাঝে মাঝে স্বপ্নে দেখা দেন। কিছু বলেন না কেবল হাসেন। দেখে মনে হয় আনন্দে গদ–গদ হইয়া চলাফেরা করছেন …” ওস্তাদ ওয়াজির খানের কাছে ধ্রুপদনির্ভর সেনীয়া ঘরানার শিক্ষা করেছিলেন আয়েত আলী খান – প্রায় তেরো বছর; তারপর যোগ দিয়েছিলেন মাইহার ব্যান্ডে। তবে তাঁর মূল পারদর্শিতা ছিল বাদ্যযন্ত্র তৈরিতে; প্যারিস থেকে একটি চিঠিতে আলাউদ্দিন ভাইকে লিখছেন, “আমার ইচ্ছা হয় বেসের জন্য বেহালার অনুকরণ না করিয়া আমাদের দেশী যন্ত্র করা যায় কিনা। নীচের দিকে সারেঙ্গী কিংবা এসরাজ যন্ত্রের নমুনা রেখে উপরের খাড়াটা চন্দ্রসারঙ্গের মতন করলে কিরূপ হয় চিন্তা করে দেখবে। নীচটা পাতলা তকতা দ্বারা করতে হবে, যাতে বড়ো আওয়াজ হয়।”

আরও পড়ুন:  খাবার খেয়ে মাথায় হাত গ্রাহকের! রেস্তোরাঁর বিল ১.৩ কোটি...

আয়েত আলী খানের সংগীতগুণে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে বিশ্বভারতীর সংগীত ভবনে যন্ত্রসঙ্গীত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে বরণ করে নিয়েছিলেন। পরে যদিও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং বাকি জীবন সাধনপীঠ কুমিল্লায় মগ্ন ছিলেন সুরের সাধনায়। সৃষ্টি করেছিলেন মনোহরা, চদ্রসারং, মন্দ্রনাদ প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র। পরবর্তীকালে সুরবাহার ও সরোদেরও নতুন রূপ দিয়েছিলেন তিনি।

Featured article

%d bloggers like this: