22 C
Kolkata

Tourist Spot: এখান থেকেই নাকি স্বর্গের শুরু! জেনে নিন ভারতের ‘শেষ গ্রাম’ সম্পর্কে

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারত তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সারা বিশ্বে বিখ্যাত। ভারতের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি শহরের নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচয় এবং গল্প রয়েছে। এই পরিপেক্ষিতে উত্তরাখণ্ড যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব দৃশ্য। পর্যটনের দিক থেকে উত্তরাখণ্ড একটি চমৎকার রাজ্য। এখানে জলপ্রপাত, পাহাড়, নদী, রহস্যময় মন্দির সব কিছুরই দেখা মেলে। আর এই রাজ্যেই অবস্থিত এক অন্য স্বর্গ। চিন-ভারত বর্ডারের শেষ গ্রামের ঠিকানাও এই রাজ্য। সেই গ্রামের নাম হল ‘মানা’। উত্তরাখণ্ডের এই গ্রাম ঘিরে ভ্রমণপিপাসুদের উৎসাহ তুঙ্গে। পাহাড়ের কোলে, দেশের সীমানায় ছোট-বড় গ্রাম থাকা আশ্চর্যের বিষয় নয়। তবে ‘মানা’ গ্রামটিকে সরকারিভাবে দেশের শেষ গ্রাম তকমা দেওয়া হয়েছে। সাইন বোর্ডেও লেখা রয়েছে সেই তথ্য।

উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ৩,২০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত মানা। সরস্বতী নদীর জল ছুঁয়ে যায় এই গ্রামটিকে। বদ্রীনাথ থেকে এই গ্রামের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। ভারত-চিন সীমান্ত থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মানা। শান্তশিষ্ট এই গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে আকাশছোঁয়া তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে মজার ব্যাপার হল, ‘মানা’ যেহেতু শেষ গ্রাম হিসাবে পরিচিত, তাই সেখানকার চায়ের দোকান বা খাবারের দোকানের নাম ‘ভারতের শেষ চা স্টল’ এবং ‘ভারতের শেষ ফুড স্টল’। রহস্য মেশানো এই নামগুলি কিন্তু বেশ আকর্ষণীয়।

আরও পড়ুন:  Viral:আর এক ছোবলেই ছবি নয় এবার সরাসরি মৃত্যু

তবে, জানেন কি, এই ‘মানা’ গ্রাম নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু গল্প-গাথা। সেখানে ‘ভীমপুল’ নামে একটি পাথরের সেতুও রয়েছে। ধর্মপ্রাণরা মনে করেন, পাণ্ডবরা যখন স্বর্গে যাত্রা করেছিলেন তখন নাকি এই ‘মানা’ গ্রামের মধ্য দিয়েই গিয়েছিলেন। স্থানীয়দের মধ্যে আরও একটি তীব্র বিশ্বাস রয়েছে এই জায়গাটি নিয়ে। সেখানে এক গুহা রয়েছে যাতে মহাকবি বেদ ব্যাস স্বয়ং বাস করতেন। তাঁর নাম অনুসারের সেই স্থানের নাম ‘ব্যাস গুহা’। এই গুহায় বেদ ব্যাসকে নিবেদিত একটি ছোট মন্দিরও রয়েছে। কথিত আছে এই মন্দিরটি পাঁচ হাজার বছরের পুরনো। গণেশ গুহাটি ব্যাস গুহা থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত, যার সম্পর্কে বলা হয় যে ভগবান গণেশ এখানে বসে মহাকাব্য মহাভারত রচনা করেছিলেন।

আরও পড়ুন:  Hydrogen Train: আর নেই দূষণের চিন্তা! এবার দূষণহীন ট্রয়ট্রেন

পৌরানিক বিশ্বাস ছাড়াও ‘মানার’ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অত্যন্ত মনোগ্রাহী। ট্রেক করার পক্ষে এই জায়গাটি দারুন। পাহাড়ের কোল বেয়ে ওঠা এই গ্রাম ও বসতি কোনও সুসজ্জিত ক্যানভাসের চেয়ে কম কিছু নয়। ‘মানা’ ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় মে মাস থেকে নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে। যেহেতু সীমান্তে অবস্থিত, তাই তুষারপাতের ফলে নভেম্বর মাস থেকেই মোটামুটি দুর্গম হতে শুরু করে সেখানকার রাস্তা।

Featured article

%d bloggers like this: