26 C
Kolkata

Terrible mental discrimination: ভয়াবহ মানসিক বৈষম্য ?

নিজস্ব প্রতিবেদন : মানুষই একমাত্র প্রজাতি, যার অন্তঃপ্রজাতিক বৈষম্য ভয়াবহ। সম্পদ, মেধা-সম্পদ, লাইফস্টাইল, সবেতেই। মানুষ বাদ দিয়ে প্রাণীজগতের অন্য যেখানেই তাকানো যাক না কেন, এই বৈষম্য কিন্তু দেখা যাবে না। এরকম হতে পারে না যে একটা কাঠবেড়ালি, কাঠবেড়ালির ‘সমাজে’ জমিদার আর একটা কাঠবেড়ালি পথের ভিখারি। আর যদি সামান্য বৈষম্য থাকেও তাও লক্ষ্য করলে দেখা যাবে মনুষ্য-সৃষ্ট। যেখানে কোটি কোটি মানুষ খেতে পান না বা খিদে-পেটে রাতে ঘুমোতে যান, সেখানে কিছু বহুজাতিক কোম্পানির লো-ক্যালোরি খাদ্য-প্রক্রিয়াকরণ ব্যবসা একটা মাল্টি-বিলয়ন ডলার ইন্ডাস্ট্রি। এমনকি ভারত, বিশ্ব-ক্ষুধা সূচকে একদম নীচের দিকে থাকা একটা দেশ (১০৭ টা দেশের মধ্যে ৯৪তম), পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মানুষ ভারতেই খিদে-পেটে রাতে ঘুমোতে যান, সেখানে মূলত অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ করবার সুবিধা দেবার জন্য ব্যাঙের ছাতার মতো জিম তৈরি হচ্ছে আজকাল। মেক্সিকান লেখক কার্লোস ফুয়েন্তেস তাঁর “This I Believe: An A-Z of a Writer’s Life” বইতে যা বলেছিলেন তা রীতিমত ‍শিহরণ জাগানোর মতো :

আরও পড়ুন:  Union Budget 2023: সস্তা মোবাইল-হীরে, সোনায় মোড়া দাম জানুন বিস্তারিত

“শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রসাধনের জন্য যে টাকা (৯ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করা হয়, তাই দিয়ে সারা পৃথিবীর ডেভেলপিং দেশগুলির সমস্ত বাচ্চাদের প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়। এটা কি মানা যায়? আজকের পৃথিবীতে, গরিব দেশগুলোর খাদ্য, স্বাস্থ্য এবং পরিস্রুত জলের সমস্যা সমাধানের জন্য ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারই যথেষ্ট। অন্যদিকে কেবলমাত্র ইউরোপে সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় শুধু আইসক্রিমের পেছনে। গ্রহণযোগ্য? আরও অনেকের মতো, ইউনেস্কোর প্রাক্তন মহাপরিচালক ফেদেরিকো মেয়র এবং বিশ্বব্যাংকের প্রাক্তন পরিচালক জেমস উলফেনসনের পক্ষেও ‘এটা মেনে নেওয়া অসম্ভব, যে পৃথিবী মারণাস্ত্রের পেছনে বছরে আনুমানিক ৮০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে পারে, অথচ প্রতিটি শিশুকে স্কুলে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার জোগাড় করতে পারে না।’

আরও পড়ুন:  Hanuman Ji: জানেন কি এখনও কোন মন্দিরে হনুমান জি-কে বেঁধে রাখা হয়েছে !

বিশ্বব্যাপী সামরিক খাতে ব্যয়ের মাত্র এক শতাংশ অর্থ দিয়ে পৃথিবীর প্রত্যেকটা শিশুকে ক্লাসঘরের ব্লাকবোর্ডের সামনে বসিয়ে দেওয়া যায়।”
মূলত এই বৈষম্যই মানব সভ্যতাকে আজ ধ্বংসের একদম সামনা-সামনি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সভ্যতা গড়ে উঠবার জন্য ও টিকে থাকবার জন্য যে কয়টি প্রাকৃতিক মানদণ্ড, যেমন শ্বাসবায়ু, পরিষ্কার জল, সহনশীল তাপমাত্রা ইত্যাদির প্রয়োজন, তার প্রায় প্রতিটাই এখন যে অতি-বিপজ্জনক অবস্থানে রয়েছে, বস্তুত তার কারণও কিন্তু এই অতি-বৈষম্য। কিভাবে?

Featured article

%d bloggers like this: