18 C
Kolkata

ব্যাটের বদলে স্টিয়ারিং

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ পেটের টানে সূরয রণদিভে এখন একজন বাস চালক। এটাই তাঁর বর্তমান পরিচয়। তাও নিজের স্বদেশের মাটিতে নয়, খোদ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মেলবোর্নের রাস্তায়। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি ক্রিকটারদের যে স্টেডিয়ামগুলিতে খেলার স্বপ্ন থাকে সর্বত্র, মেলবোর্ন স্টেডিয়াম তাদের মধ্যে অন্যতম।

পেটের জ্বালার মত মারাত্মক জ্বালা আর কিছু হয় না। এই জ্বালার হাত থেকে বাঁচতে মানুষ সবকিছু করতে পারেন। সেখানে প্যাশন তো কোন ছাড়! যেমনটা ঘটছে তরুণ সূরয রণদিভের ক্ষেত্রে। সূরয রণদিভে নামের এই ক্রিকেটারকে অবশ্য ভুলে গিয়েছেন অনেকেই। ভুলে যাওয়ারই কথা। কেননা সূরযের মত এইরকম বহু ক্রিকেটারকেই মনে রাখেনি ক্রিকেট বিশ্ব। তবে সূরয এখন যে পেশা বেছে নিয়েছেন তা দেখেই চমকে উঠেছেন সকলে। ‌‌

বর্তমানে দুবাইয়ের মাটিতে চলছে আইপিএল। ২০১১ সালের আইপিএলের আসরে সূরয রণদিভে ছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সহযোগী। আজ ধোনিরা আইপিএলের আসরে ব্যাট হাতে মাঠে নামলেও সূরয আর নামেন না। তিনি হয়তো তখন বাসের স্টিয়ারিং হাতে মেলবোর্নের রাস্তায় ব্যস্ত থাকেন যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যস্থলে নামিয়ে দিতে। সত্যিই নিয়তির কি করুণ পরিহাস! কিন্তু এতে দুঃখ নেই সূরযের। সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখে সে জবাব দেয়, হ্যাঁ আমি পেট চালাতেই আজ এই পেশা বেছে নিয়েছি। পাশাপাশি সূরয সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানান, আমার এই প্রতিদিনের কর্মজীবনে যদি কোনও ক্রিকেট সমর্থককে পেয়ে যাই তাহলে তো আর কথাই নেই। জমে যায় আড্ডা। মণের মণিকোঠায় তখন উঁকি মারে আমার খেলোয়াড় জীবনের স্মৃতিগুলো। যে স্মৃতিগুলো সম্বল করেই আমি বেঁচে আছি।

ক্রিকেটের ২২ গজে বর্তমানে তাঁর জায়গা না হলেও ক্রিকেটকে এখনও পুরোপুরি ত্যাগ করতে পারেননি এই বাস ড্রাইভার। এখনও সময় পেলেই কাজের অবসরে ব্যাট হাতে নেমে পড়েন। জাতীয় দলের হয়ে ১২টি টেস্ট, ৩১টি একদিনের ম্যাচ সহ তিন ফর্ম্যাটেও ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে সূরযের।

আরও পড়ুন:  Germany vs Costa Rica : টানা দু'বার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় জার্মানির

সূরয আপনাকে হ্যাটস অফ জানায় ক্রিকেট দুনিয়া। পেটের জ্বালায় প্যাশন পরিবর্তন করতে বাধ্য হলেও যে ক্রিকেটের জন্য গোটা বিশ্বের মানুষের কাছে তাঁর পরিচয়, তাঁকে তিনি ত্যাগ করবেনই বা কেমনভাবে? কোটি টাকার এই প্রশ্নের কোনও উত্তর কারোর জানা আছে বলে মনে হয় না। থাকলে হয়তো সূরযকে আজ বাস চালাতে হত না মেলবোর্নের রাস্তায়। তিনি হয়তো ব্যস্ত থাকতেন কোন দেশের জাতীয় দলের কোচ বা নিজের দেশের নির্বাচক পদে আসীন হয়ে। অথবা তাঁকে দেখা যেত কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচের ধারাভাষ্যকার হিসেবে। এখানেই হয়তো হেরে গিয়েছেন সূরয।

Featured article

%d bloggers like this: