25 C
Kolkata

WB: ‘লক্ষ্য যদি অনুদানই হয় তবে শিক্ষার অবস্থান কোথায়?’: স্বর্ণলতা সরকার

লেখা: স্বর্ণলতা সরকার

আজকের সমাজে শিক্ষার অবস্থান যে কতটা নিম্নস্তরের পৌঁছে গেছে তা আর আলাদা করে কিছু বলার জায়গা নেই,তবে এর জন্য দায়ী শুধু আর শুধুমাত্র আমাদের মতো আত্মকেন্দ্রিক অভিভাবকগন যাঁরা সরকারী অনুদান নেওয়ার জন্য সারাদিন অনুদানের লাইনে দাঁড়িয়ে কাটিয়ে দিতে কুণ্ঠিত বোধ করে না, কিন্তু নিজে সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে গেলে করোনার আতঙ্কে ছড়িয়েও জড়িয়ে পড়ে । শিক্ষা গ্রহণ করতে বললে , বলে কি হবে শিক্ষিত হয়ে তাতে কি পেটের ভাত জুটবে? তার চেয়ে অল্প বয়সে রোজগার করতে শিখে গেলে সংসার চালাতে সুবিধা হবে, যখন সরকারের সার্ভে করে এই ধরনের কথা শুনতে শুনতে কান পেকে যেতে বসল, তখন সরকার পদক্ষেপ নিলেন বিদ্যালয়গুলি তে ছাত্র ছাত্রী র সংখ্যা কায়েম রাখতে ‘মিড ডে মিল ‘এতেও যখন সঠিক ফলাফল পাওয়া সম্ভব হল না তখন সরকারের দ্বিতীয়- পদক্ষেপ এল সাইকেল , কারণ ছাত্র ছাত্রীদের বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দুরত্ব, তৃতীয় – বৃষ্টিতে ভিজে অভিভাবকের সন্তানেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, তাই ঠিক করা হল তাদের বর্ষাতি দেওয়া হবে, জানি না সে প্রকল্প চালু করা হয়েছে কিনা, সাথে রয়েছে নানানধরনের শ্রী প্রকল্প সেগুলো তে আর আলাদা করে কিছু বলার নেই।বেশ কিছু দিন আগে শুনলাম মোবাইল ফোন ও নাকি দেওয়া হবে পড়াশোনা সুবিধার্থে ।

এক সময়ে ছিল হাতে ঘড়ি , কানে দুল এমনকি কপালে কালো টিপ পরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে শাস্তির সামনা করতে হত , আর আজকাল এসব গল্প কথা বলে মনে হয়।এত শাস্তির মুখে পড়েও তখন শিক্ষাটা কায়েম ছিল আর আজ সকল সুবিধা আর অনুদানের বোঝায় শিক্ষা কোথাও চাপা পড়ে যেতে চলেছে , আর এর জন্য একমাত্র দায়ী আমরা অভিভাবক রাই। যদি বলেন কেন, তবে বলব এই কেন এর জবাব একবার নিজেকে কাছে জানতে চান, আজ আপনার ও আমার অভিভাবকরাও যদি আপনার আমার মত চিন্তা করতেন, তাহলে আমাদেরও হয়তো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ই থাকতে হতো । কিন্তু আজকের অভিভাবকরা যে কি মস্ত বড় ক্ষতি করছেন নিজের হাতে নিজেদের ই সন্তানদের সেটা যেদিন উপলব্ধি করতে পারবেন, সেদিন আর তাঁদের ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।আমরা সামান্য থেকে অতি সামান্য বিষয়ে কত না প্রতিবাদ এর ঝড় তুলি কিন্তু আজ যখন শিক্ষার মত এত বড় গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে গুরুত্বহীন হয়ে মুছে যেতে বসেছে ক্রমশ তখন কিন্তু কোন প্রতিবাদ, মিটিং মিছিল অনশন কিচ্ছু নেই, আমার প্রশ্ন হল, কিন্তু কেন? আমাদের চিন্তা শক্তি কি সব ঐ অনুদানের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে? নিজেদের সামান্য অনুদান নিতে গিয়ে আমাদের সন্তানদের যে কি চরম ক্ষতি আমরা ডেকে আনতে বসেছি তা কি সত্যি ই আমরা জানতে পারছি না।আমরা মনোনীত করে যে সরকার কে নির্বাচন করেছি আজ তাঁরাই ক্ষমতায় এসে আমাদের ই আবেগ নিয়ে কি ভাবে খেলা করছে, আজ আমাদের অনুদান নিতে ভালো লাগছে কিন্তু এই অনুদান দিতে গিয়ে নিত্য দিনের দ্রব্য মূল্যের দাম যে আকাশছোঁয়া হয়ে গেল সেটা কি কারোর মগজে ঢুকল না , আমাদের মাথার উপর যে ঋণের বোঝা চাপানো হচ্ছে তার কথা কি কারোর জানা নেই, আজ সরকার যে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হচ্ছে সেই সরকার ই জনগনকে দিনে দিনে বোকা বানাচ্ছে, সব কিছু ই দিচ্ছে , বিনিময়ে ভাঙছে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের মেরুদন্ড শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে আর তাতে মদত দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধ করছি আমরা অভিভাবক রা নিজেরাই।

আরও পড়ুন:  Weather: নভেম্বরেই বাংলায় জমিয়ে ব্যাটিং শীতের! আরও কমল তাপমাত্রার পারদ

রাজ্য সরকার বলছে বাজার খোলা রাখো , কিন্তু মাক্স পড়ে দুরত্ব বজায় রাখতে হবে দু ফুটের আর হাত সেনেটাজার করে ,সব কিছু ই করুন , তাহলে শিক্ষার ক্ষেত্রে এই নিয়মের আওতার আসে না কেন? কেন শিক্ষা কেও এই নিয়মে বেঁধে ভবিষ্যত প্রজন্মকে আরো মজবুত করা হল না, কারণ কি শিক্ষিত হলে প্রশ্ন করবে , কর্ম চাইবে আমাদের দেশের দুই সরকারের কাছে আর যার জবাব দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের এই পঙ্গু সরকারের কাছে নেই।আজকের যা পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে করে এবার আমাদের যুব সমাজ কে এগিয়ে আসতে হবে, কারণ একটাই যে রাষ্ট্র আর রাজ্যে দান আর অনুদান এর আদত পরে গেছে , যাতে অন্ধ হয়ে আমরা বর্তমানের সাথে সাথে ভবিষ্যত প্রজন্ম কেও পঙ্গু করে দিতে বসেছি জেনে বুঝে , তাই এবার আমার যুব সমাজের কাছে একান্ত অনুরোধ তোমরা এগিয়ে এসো এই সকল দুর্নীতির বিরুদ্ধে।শিক্ষা, স্বাস্থ্য আমাদের জন্মগত অধিকার , আর একটি সার্থক ও উন্নত রাষ্ট্রের পরিচয় ই হল , সেখানকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, আর আমাদের দেশের এই দুই টি গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়ে ই ঘুণ ধরিয়ে দিয়েছে কিছু আত্মলোভী সত্তায় থাকা বা ক্ষমতায় থাকা হায়নার দল , এবার এদের যোগ্য জবাব দেওয়ার সময় এসেছে , তাই সময় থাকতে সাবধান হতে হবে এবং একজোট হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে, জানি সে পথ কঠিন কিন্তু অসম্ভব কিছু নয় তাই আর সময় নষ্ট না করে এসো আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রুখে দাঁড়াই।কতদিন আর আমাদের ই অনুদানে নির্বাচিত হয়ে সত্তা গদিতে বসে আমাদেরকে ই দান অনুদানের আসক্ত করে তুলেছে এই রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা ,এবার এদের বুঝিয়ে দেবার সময় এসেছে ।

আরও পড়ুন:  Dengue Survivor: উদ্বেগ বাড়ছে ডেঙ্গু পর নতুন রোগ

Featured article

%d bloggers like this: