28 C
Kolkata

First woman Doctor in ilI India: কাদম্বিনীর বাড়ি ভেঙে তৈরী বহুতল

নিজস্ব প্রতিবেদন: ‘ফার্স্ট গ্রাজুয়েট ইন ইন্ডিয়ান ওম্যান’ ও ‘ফার্স্ট ওম্যান ডক্টর ইন ইন্ডিয়া’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন কাদম্বিনী। দ্বারকানাথ গাঙ্গুলির দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। যেই সময় মেয়েদের পড়াশোনার কথা কেউ ভাবতেও পারতেন না সেই সময় তিনি রমরমিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেছেন। আর তিনি কলকাতার থাকতেন ১৩-এ বিধান সরণি অতীতে যা কর্নওয়ালিস স্ট্রিট নামে পরিচিত। এই ঠিকানাতেই এক সময়ে সপরিবারে বসবাস করতেন প্রথম মহিলা চিকিত্‍সক কাদম্বিনী গাঙ্গুলি (১৮৬১-১৯২৩)। সেই বাড়িটি ভেঙে ফেলে তাতে তৈরি হতে চলেছে বহুতল।

এই বাড়িটিকে হেরিটেজ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু দিন কয়েক আগে শুভাপ্রসন্ন দ্য ওয়াল-কে ফোনে বললেন, ‘ওই বাড়ি একটি পিসি চন্দ্র জুয়েলার্স কোম্পানি কিনে নিয়েছে। ওরা ওখানে একটা মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং তৈরি করবে। আমরা ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছি।’ কিন্তু ওই বাড়ি তো হেরিটেজ। কমিশন সংরক্ষণ করবে বলে আপনি জানিয়েছিলেন, এই প্রশ্ন শুনে রীতিমতো রেগে গিয়ে শুভাপ্রসন্ন বলেন, ‘ওই বাড়ি ভেঙে পড়েছে। সারানোর টাকা আপনি দেবেন। পনেরো-কুড়ি কোটি টাকা লাগবে। সরকারের কাছে টাকা নেই। তাই আমরা ছাড়পত্র দিয়েছি। পিসি চন্দ্র জানিয়েছে যেহেতু কাদম্বিনীর বাড়ি, ওঁরা বিল্ডিংয়ে একটা একটা স্মারক রাখবে।’ বাড়ির সামনে একটি ক্যাফে আছে। এলাকাটি কলকাতা পুরসভার ৩৮ ওয়ার্ডের অন্তর্গত। তৃণমূল কাউন্সিলর সাধনা বসু বললেন, ‘হেরিটেজের বিষয়ে কিছু জানিনা। তবে ওই ক্যাফে অবৈধ। ওরা ওই বাড়ির সামনে জায়গা দখল করে বসেছে। আমি চেষ্টা করেছিলাম তুলে দেওয়ার। ওই বাড়ি নিয়ে বিবাদ রয়েছে। এখন পিসি চন্দ্র জুয়েলার্স কিনেছে। যদি হেরিটেজ হয়, তা পুরসভা দেখবে। আমার কিছু করার নেই।’ যে বাড়িতে জন্মেছেন উপেন্দ্রকিশোর ছয় সন্তানের মধ্যে পাঁচজন ও সুকুমার রায়। সেই বাড়ির একাংশ ভেঙে আগেই প্লাজা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:  Child Punishment Howrah: পারিবারিক আক্রোশের জেরে শাস্তি পেল বিশেষভাবে সক্ষম ছেলে
আরও পড়ুন:  Kolkata Tala Bridge: অবশেষে উদ্বোধনের পথে টালা ব্রিজ

দিন কয়েক আগে সেই বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা গেল, বাড়িতে ঢোকার সব গেট টিন দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছেন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী। তাঁকে গেট খোলার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, ‘ঢোকার অনুমতি নেই। আমার চাকরি চলে যাবে।’ আগাছা আর বড় বড় বট অশ্বত্থ গজিয়েছে চতুর্দিকে। হেরিটেজ কমিশন কোনও উদ্যোগই নেয়নি বলে অভিযোগ এলাকার লোকজনের। তবে একবার বাড়ি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল কমিশন। তখন কমিশনের চেয়ারম্যান শুভাপ্রসন্ন জানিয়েছিলেন, ওই বাড়ি মেরামত করা হবে।

জানা গেল, স্বাধীনতা পরবর্তী কোনও এক সময়ে শরিকি ভাগভাগিতে বাড়িটি বিভক্ত হয়ে যায় দুই ঠিকানায়—১৩এ এবং ১৩বি। ১৩বি অংশটি নিশ্চিহ্ন হয়ে তৈরি হয়েছে প্লাজা। ২০০৫ সালে ১৩ এ অংশটি হেরিটেজ তকমা পায়। কিন্তু গ্রেড আইআইবি ধারায় চিহ্নিত হওয়ায় আইনের ফাঁক রয়েছে। সেই ফাঁক গলে অবশিষ্ট অংশটিও মুছে যাওয়ার অপেক্ষায়।এলাকার অনেকের অভিযোগ, ২০১৫ সাল থেকেই ভাঙার কাজ চলছে। তবে ধীরে ধীরে। কেউ যাতে টের না পায়, সেজন্য বাইরে টিন দিয়ে উঁচু করে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। বাড়ি কেনা ও প্লাজা তৈরির বিষয়টিতে পিসি চন্দ্র জুয়েলার্সের শুভ্র চন্দ্র জানান, ‘আই হ্যাভ নো ইনফরমেশন।’

আরও পড়ুন:  Bagtui: অবশেষে গ্রেপ্তার ভাদু শেখ খুনের 'মাস্টারমাইন্ড'
আরও পড়ুন:  IND vs AUS : অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কম্বিনেশন নিশ্চিত করাই লক্ষ্য টিম ইন্ডিয়ার

Related posts:

Featured article

%d bloggers like this: