28 C
Kolkata

ঐতিহ্যের ব্যতিক্রম নয় এবারেও কাশিমবাজারে

সুব্রত রায়: আজও প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে কাশিমবাজার রাজবাড়িতে পূজিতা হন মা। মুর্শিদাবাদের বনেদিবাড়ির পুজো গুলির মধ্যে অন্যতম কাশিমবাজারের ছোট রাজবাড়ির পুজো। সেখানে অবশ্য এখনও নেই সেই রাজা। নেই সেই রাজ্যপাটও। কিন্তু এখনো রয়েছে তা হল ঐতিহ্য ও পরম্পরা। সেই ঐতিহ্যই বাঁচিয়ে রেখেছে কাশিমবাজারের রায় বাড়ির পুজোকে।সোমবার নিষ্ঠা ও ঐতীহ্য মেনে নবমী পূজো এবং কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে।

ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে জানা যায়,১৭৪০ সালে রেশমের ব্যবসায়ী দীনবন্ধু রায় অধুনা বাংলাদেশের ফিরজপুর থেকে ব্যবসার জন্য এসেছিলেন কাশিমবাজারে। পরে এই কাশিমবাজারেই বসবাস করতে আরম্ভ করেন তিনি। ব্রিটিশ সরকার দীনবন্ধু রায়কে রেশম কুটিরের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করে। ব্রিটিশ সরকার আনুকূল্যে ফুলে ফেঁপে ওঠে তার ব্যবসা। ১৭৯৩ ব্রিটিশ সরকার রায় পরিবার কে জমিদারি স্বত্ব দেয়। মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজারের ছোট রাজবাড়িতে তার পর থেকেই শুরু হয় দুর্গাপুজো। এবাড়ির উত্তরসূরিরা এখন শহর নিবাসী। কিন্তু বছরের এই সময়টায় জেগে ওঠে আনন্দে সারাবছর অবহেলায় পড়ে থাকা এই জমিদার বাড়ি। রায়বাড়ির বর্তমান প্রজন্ম প্রশান্ত রায়ের তত্ত্বাবধানে সাজসাজ রব পরে যায় এই কটা দিন। প্রশান্ত রায় তার স্ত্রী সুপ্রিয়া রায় তাদের সন্তানদের নিয়ে এই রাজবাড়িতেই কাটান।

আরও পড়ুন:  Train Cancellation: কুড়মিদের অবরোধে বৃহস্পতিবারও অবরূদ্ধ একাংশ

প্রাচীন নীতি মেনে সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত তিনদিন এখনে কুমারী পুজো হয়।যা রাজবাড়ির মহিলারা করেন। দশমীর দিন হয় অপরাজিতা পুজো। আগে এই পুজোতে বলি হলেও এখন আর বলি হয় না। এখন মাছ ,মিষ্টি নিবেদন করা হয় মা দুর্গাকে। আগে আশেপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পুজোর কটাদিন পাত পেড়ে খেয়ে যেতেন এই রাজবাড়িতে। কিছু বছর আগেও এখানে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হত দশমী তিথিতে। কিন্তু কালের নিয়মে সেসব এখন অতীত। বর্তমানে ঐতিহাসিক এই কাশিমবাজারের ছোট রাজবাড়ি দুর্গাপূজো দেখতে বহু দূর দুরান্ত থেকে মানুষ আসেন সেখানে।যদিও কোভিড পরিস্থিতিতে এবছর অঞ্জলী দেওয়া বন্ধ থাকছে যথারীতি। গত বছরও অঞ্জলী দেওয়া বন্ধ ছিল। এবছরও অঞ্জলী দেওয়া বন্ধ রাখা হচ্ছে রাজ পরিবারের পক্ষ থেকে বিধি মেনে কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে । তবে আনন্দে ভাঁটা পড়ছে না।

আরও পড়ুন:  Brahmaputra River-Underwater Road-Rail Tunnel: দেশ প্রথম তৈরি হতে চলেছে 'আন্ডারওয়াটার রোড-রেল টানেল'

Featured article

%d bloggers like this: