25 C
Kolkata

Disabled youth:- প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে জাতীয় পুরস্কার আনতে চায় ভাস্কর

নিজস্ব প্রতিবেদন:- মনের ইচ্ছা শক্তি থাকলেই যে সমস্ত প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া যায় তার প্রমাণ মিলেছে বহুবার। তবে প্রতিবন্ধকতা যেখানে সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেখানে প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলতে হয় আর তার জন্য প্রয়োজন মনের জোর। সেই মনের জোরেই হাজার প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে এসেছেন বহু বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা। তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ নদীয়ার ভাস্কর।

সমাজে আর দশটা শিশুর মতোই জন্ম নিয়েছিল ভাস্কর। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে শুরু করে। এবং বয়সন্ধিকালে তা ফুটে ওঠে ভাস্কর এর মধ্যে। শরীরের মধ্যে অস্বাভাবিক ভাবে ছোট দুটো হাত। কিন্তু তাতে কী? খর্বাকার মানুষটির ছোট দুটি হাতেই এল পুরস্কার। নদীয়ার ভাস্করের হাত দিয়ে নদীয়া জেলার নতুন সম্মানের সংযোজন।

কেন ভাস্করের এমন অবস্থা ?

ডাক্তারি ভাষায় লিউকেমিয়া বা শরীরের অপরিপক্ক শ্বেত কণিকা বৃদ্ধির কারণে, পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের অভাবে হাইপোথাইরয়েজিয়ম অথবা ক্রোমোসোমাল ডিজঅর্ডার যে কারণেই হোক না কেন চলতি কথায় বামন। হঠাৎ হাড় এবং মাংসপেশির অনিয়মিত বৃদ্ধি, যার গ্লানি বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় সারা জীবন।

নদীয়া জেলার গাংনাপুর এলাকার বছর পঁচিশের যুবক ভাস্কর বিশ্বাস। ৫০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতা শুধু নয় হঠাৎ বাবার মৃত্যুর কারণে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করা হয়নি ভাস্করের। এরপর মা, অসহায় পরিবার, নিজের খরচ চালাতে গিয়ে বাবার মতই কলকাতায় গিয়ে ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির কাজ বেছে নেন ভাস্কর।

আরও পড়ুন:  Alipur Jail: আলিপুরে সংগ্রহশালা পরিদর্শনে বিধায়করা: মুখ্যমন্ত্রী

অসহায় মাকে দেখার পাশাপাশি সংসার চালাতে গিয়ে ও ভাস্করের দুর্বল হাত দুটোকে শক্তিশালী করার অদম্য ইচ্ছা যেন কোনমতেই পিছু ছাড়ে না তাকে। দৈহিক সমস্ত দুর্বলতাকে পিছনে ফেলে ইচ্ছাশক্তিকে প্রাধান্য দিয়েই নিজের দুর্বল হাত দুটোকে শক্ত করতে বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলন কেন্দ্রে গিয়ে শুধুমাত্র ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ নিয়ে ফিরতে হয়েছে বামনত্বের কারণে।

এতকিছুর পরেও আশা ছাড়েননি ভাস্কর। সেই আশা নিয়েই বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলন প্রতিযোগিতাতে হাজির হয়ে যেত সে। ২০১৯ সালে একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয় ভাস্কর সেখানেই সেই বছরই মিস্টার এশিয়া শিরোপা পুরস্কার পাওয়া শুভেন্দু কর্মকারের সাথে আলাপ হয় ভাস্করের। নিজের বাড়ি থেকে কর্মক্ষেত্র কলকাতায় ডেলি প্যাসেঞ্জার ই করার পরেও রাতে বাড়ি ফেরার পর শরীরচর্চা নিয়ে অনুশীলন কেন্দ্র গিয়ে কথা বলতে পারা আর হয়ে উঠেনি।

কিন্তু সুযোগ আসে যখন করোনা সংক্রমনের জেরে সারা রাজ্য জুড়ে শুরু হয় কঠোর লকডাউন। লকডাউন এর সময় কাজের চাপ কম থাকার কারণেই দু’বছরে অনেকটাই রপ্ত করে ফেলেছে ভাস্কর।

আরও পড়ুন:  Rajdeep Gupta: রাজদীপ এবার কিঞ্জল

এরপরে চাকদায় আয়োজিত বেঙ্গল সেকেন্ড এবং জেলায় থার্ড হয় শারীরিক অনুশীলন প্রতিযোগিতায়। এমনকি পদুচেরি তে মিস্টার ইন্ডিয়া জুনিপার শিরোপা অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করে সে। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ থেকে একমাত্র যুবক ভাস্কর। যদিও মিস্টার ইন্ডিয়া জুনিয়র প্রতিযোগিতায় পাঁচ জনের একজন হতে পারলেও বিনা পুরস্কারে ফিরতে হয়েছে তাকে।

যদিও ভাস্করের অনুশীলন শিক্ষক শুভেন্দু বাবু জানান, “বিশেষভাবে সক্ষম হলেও অল্পদিনের মধ্যে জাতীয় স্তরের সুযোগ অনেকেই পাননা। তবে আগামীতে সাফল্য অবশ্যই পাবে ভাস্কর। প্রতিযোগিতায় সমস্ত দিক থেকে সহযোগিতা করে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবো কে। আই বি বিএফ অনুমোদিত হওয়ার কারণে সেই সংস্থা থেকে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।”

তবে জীবন যুদ্ধে এতকিছু অতিক্রম করার পরেও, যে হাতের জন্য তাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ উপহার পেতে হয়েছিল সেই দুই হাতেই জাতীয় পুরস্কার অর্জন করবে ভাস্কর এমনটা অগাধ বিশ্বাস তার।

Featured article

%d bloggers like this: