18 C
Kolkata

কান্দির ঐতিহাসিক মিটিং হল

গ্রামে মন্ত্রিসভার বৈঠক তাজ্জব এলাকার মানুষ পুলিসে ছয়লাপ। তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলেন এলাকার মানুষজন। রাজ্যের নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রী সবাই হাজির। একদিন নয়। টানা সাতদিন ধরে। গ্রামের মধ্যে বৈঠক বসেছে রাজ্যের মন্ত্রিসভার। তা দেখার জন্য আশেপাশের এলাকা থেকে মানুষের ভিড়। কে ছিল না? প্রফুল্ল সেন, অজয় মুখার্জি, অতুল্য ঘোষ এর মতো বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদ।। তখনও স্বাধীনতার কুড়ি বছর পার হয়নি। রাজ্যে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন হয়নি। প্রফুল্ল সেনের মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছিল কান্দির কাছে বহরার চিত্তবিনোদন হলে। সেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত। ওই নেতাদের দেখাশোনা করার জন্য আশেপাশের গ্রামের যুবকদের অনেককেই স্বেচ্ছাসেবক নিযুক্ত করা হয়েছিল। তাছাড়াও একাধিকবার সেই সময় জাতীয় কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের বৈঠক হয়েছে সেখানে। সেই হল আজও আছে। ওই হলের কাছে বিধানসভার অধিবেশন কক্ষের আদলে পঞ্চায়েতের মিটিং হল করা হয়েছিল। যশোহরি আনোখা পঞ্চায়েতের সেই মিটিং হলও রয়েছে। তবে ইতিমধ্যে কয়েক দশক ধরে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। চিত্তবিনোদন হলে এখন আর নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সেভাবে হয় না। ওই এলাকার রাজ্যস্তরে রাজনৈতিক গরিমা এখন আর নেই। বহরা থেকে চিত্তবিনোদন হলের পাশ দিয়ে রাস্তা ডাকবাংলা চলে গিয়েছে। তার অবস্থাও বেহাল। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, গত বর্ষার পর থেকে রাস্তার এই ভগ্নদশা। ওই হলের পাশে লাইব্রেরি হয়েছে। সেই স্বর্ণ খচিত সমাবেশের চিহ্ন সেভাবে নেই। নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই তা অজানা। স্মৃতি হাতরে সেদিনের গৌরবময় দিনের কথা বলছিলেন এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আলোক ত্রিবেদী। তিনি সম্পর্কে সেখানকার একসময়ের বিধায়ক প্রয়াত গোলবদন ত্রিবেদীর ভাইপো। তার কথায়, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্য, জাতীয় স্তরের অনেক নেতাই নিয়মিত তখন বহড়া আসতেন।

Featured article

%d bloggers like this: