22 C
Kolkata

এবার স্মার্টফোন পালস্ অক্সিমিটারের কাজ করবে

নিজস্ব সংবাদদাতা: কোভিড টরিস্থিতিতে মানুষের সাহায্যের জন্য অনেক নতুন জিনিস সামনে এসেছে। তির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য জিনিস হলো পালস্ অক্সিমিটার। যা মানুষের শরীরে অক্সিজেন লেভেলে মাপতে সাহায্য করে। তাই এই কোভিড পরিস্থিতিতে এই জিনিসটা খুবই প্রয়োজনীয় ।কিন্তু একটি পালস্ অক্সিমিটারের দাম ২০০০ টাকা, যা একটি সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ব‍্যায় করা সম্ভব নয়। যদিও কলকাতার এক স্টার্টআপ কোম্পানি, সম্প্রতি একটি মোবাইল অ্যাপ লঞ্চ করেছে, যা দিয়ে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপা সম্ভব।
শহররের একটি হেলথ স্টার্টআপ সংস্থা এই অ্যাপ তৈরি করেছে, যার পোশাকি নাম CarePlix Vital। এই অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই স্মার্টফোন থেকে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপা যাবে। এছাড়াও জানা যাবে পালস রেট। কী ভাবে এই অ্যাপের সাহায্যে ব্লাড অক্সিজেন লেভেল মাপা যাবে? স্মার্টফোন ব্যবহার করে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপার জন্য রোগীকে ফোনের ক্যামেরার নীচে আঙুল রাখতে হবে। এর পরেই ফোনের ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইট অন হয়ে যাবে ও রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপা শুরু করে দেবে। তার ঠিক পরেই অ্যাপের মাধ্যমে স্মার্টফোন ডিসপ্লেতে রিডিং ভেসে উঠবে।

আরও পড়ুন:  MacDonald: জানেন এই সংস্থায় কতজন কাজ করে?

কলকাতার যে হেলথ স্টার্টআপ সংস্থা এই অ্যাপ তৈরি করেছে, তার নাম CareNow Healthcare। সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা সুব্রত পাল বলছেন, ‘রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার জন্য প্রয়োজন একটি পালস অক্সিমিটার অথবা একটি ওয়্যারেবল ডিভাইস। এই সব ডিভাইসেই ফোটোপ্লেথিজমোগ্রাফি বা PPG প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই অ্যাপেও সেই প্রযুক্তিই ব্যবহার করা হয়েছে।

কী ভাবে অ্যাপটি ব্যবহার করে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপা যাবে, তার ব্যখ্যায় সুব্রত পাল বললেন, স্মার্টফোনের পিছনের ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করে আমরা এই কাজ করছি। সব পালস অক্সিমিটার অথবা ফিটনেস ব্যান্ডে থাকে একটি ইনফ্রারেড লাইট। যদিও স্মার্টফোনে ফ্ল্যাশলাইটের মাধ্যমেও এই কাজ সম্ভব। আর আমরা তা সফল ভাবেই করে দেখিয়েছি। আঙুল দিয়ে স্মার্টফোনের পিছনের ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশলাইট ঢেকে 40 সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হবে। তার পরে আলোর ঔজ্জ্বল্যের পার্থক্যের মাধ্যমে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ও পালস রেট পরিমাপ করা হবে।

আপাতত CarePlix Vital-এর এই অ্যাপ ব্যবহারের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আঙুল কত জোরে চেপে ক্যামেরার উপরে রাখা হচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করবে রিডিং। যত জোরে আঙুল ক্যামেরার উপরে চাপা হবে, তত নিখুঁত রিডিং পাওয়া যাবে। মাত্র 40 সেকেন্ড স্মার্টফোনের উপর আঙুল রাখলে, সেই ফোনের ডিসপ্লেতে রিডিং ভেসে উঠবে। ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে এই রেকর্ড ক্লাউডে সেভও করা যাবে।

আরও পড়ুন:  টুইটার-মেটা-অ্যামাজনের পথেই হাঁটছে গুগল, কাজ হারাতে পারেন ১০ হাজার কর্মী

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পালস অক্সিমিটারের মতোই কার্যকরী স্রেফ একটা মোবাইল অ্যাপ রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপতে কতটা সফল? এই প্রসঙ্গে CarePlix Vital-এর আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা মনসিজ সেনগুপ্ত বলেন, ‘ইতিমধ্যেই কলকাতার শেঠ শুক্লা কারনানি মেমোরিয়াল হাসপাতালে 1200 জনের উপরে এই ডিভাইসের ক্লিনিকাল ট্রায়াল হয়েছে। অন্য দিকে সুব্রত পাল যোগ করলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগে বেশিরভাগ ট্রায়াল করা হয়েছে। এই ট্রায়ালে আমরা 96 শতাংশ সঠিকভাবে হার্টবিট ও 98 শতাংশ সঠিকভাবে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপ করতে পেরেছি।

Featured article

%d bloggers like this: